পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

 বলা বাহুল্য—হতভাগ্য মীর লতিফের সহিত প্রতিশ্রুতির কথাটা, তিনি তাঁহার চিত্ত হইতে একাবারে মুছিয়া ফেলিলেন। খালি তাই নয়, সেই দিনই তিনি—ছাউনীতে মীর লতিফের সহিত দেখা করিয়া, তাহাকে সমস্ত ঘটনা খুলিয়া বলিলেন। আর এটুকুও তাঁহাকে বুঝাইয়া দিলেন, যে আনারের সহিত যখন নবাব সুজা বেগের বিবাহ সম্বন্ধ স্থির হইয়া গিয়াছে, তখন তাহার সহিত এখন অত ঘন ঘন দেখা করাটা তার পক্ষে সুযুক্তিকর নহে।

 মীর লতিকের বুকে, প্রচণ্ড শেলের মত এই সাংঘাতিক কথাগুলি আঘাত করিল। এই আঘাতে তাহার হৃদয় শতধা বিচ্ছিন্ন হইল। সে যে ভবিষ্যৎ সুখস্বপ্নের একটা উজ্জ্বল দীপ্তিতে মোহিত হইয়া, সংসারের বুকে ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল, সেই দীপ্তিটা যেন সহসা নিভিয়া গেল। সে দেখিল— তাঁহার অন্তরে, বাহিরে, সূচীভেদ্য প্রলয়ের অন্ধকার।

 আর মীর লতিফের সহিত সাক্ষাত সময়ে তাহার সহিত যে যে কথাবার্ত্তা হইয়াছিল, আনারউন্নিসার পিতা, তাহার সকল গুলিই গৃহে ফিরিয়া আসিয়া, কন্যার নিকট ব্যক্ত করিলেন। আর এটুকুও তাঁহার কন্যাকে তিনি বুঝাইয়া দিলেন, যে এতবড় কথাটা শুনিয়াও মীর লতিফ, একটুও বিচলিত হয় নাই! বরঞ্চ সে এ সংবাদে যেন খুবই আহ্লাদিত হইয়াছে।

 নবাব সুজা বেগের সহিত কন্যার বিবাহটা দিয়া ফেলিতে পারিলেই, তিনি একটা লজ্জাস্কর হীন ঋণদায় হইতে মুক্তি লাভ

৭৮