পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

পীর-মহরমের আস্তানার অতি নিকটে, এক নির্জ্জন মস‍্জিদের মধ্যে এই মহাত্মা ফকির জুম্মাশা, তাঁহার ধর্ম্মময় জীবন যাপন করিতেন।

 তাঁহার বয়স কত, তাহা কেউ ঠিক বলিতে পারে না। তাঁহার শুভ্র কেশ, সুদীর্ঘ শ্বেত শ্মশ্রুরাজি, গলদেশে নীল বর্ণের তবলকির মালা এবং পরিধানে সুনীল বসন। মুখে যেন তখনও যৌবনের লাবণ্য তেজ ও প্রতিভা পূর্ণমাত্রায় বর্ত্তমান। অতি প্রাচীনেরা অনুমান করেন, তাঁহার বয়স, আশী বৎসরের উপর হইবে।

 সংসার বিরাগী—এই জুম্মাশার, সকল জীবের উপর সমান দয়া। সকল ধর্ম্মের লোককেই তিনি শ্রদ্ধার চক্ষে দেখিতেন। হিন্দুও মুসলমান সবই তাঁহার চক্ষে এক। আর্ত্তের উপকার, পীড়িতের সেবা, অনাথকে আশ্রয় দান, অনাহারীকে আহার প্রদান, তাঁহার নিত্য কর্তব্য। তাঁহার অতিথিশালার উন্মুক্ত ভাণ্ডার, এই “পীর মহরমের ” সীমার মধ্যেই ছিল। তিনি নিজে অবশ্য সকল সময়ে এই সমস্ত দরিদ্র লোকের সেবাব্রতে নিযুক্ত থাকিতে পারিতেন না। তাঁহার অনুগত শিষ্যবর্গের মধ্যে এক একজনের উপর তিনি এক একটী নির্দ্দিষ্ট কর্ত্তব্য ভার দিয়া রাখিয়াছিলেন। আর নিজে প্রতিদিন প্রভাতে ও সন্ধ্যার সময় একবার করিয়া পীরমহরমে উপস্থিত হইতেন। এই সময়েই লোকে তাঁহার দর্শন পাইত।

 এই সন্ন্যাসী জুম্মাশার একজন অনুগৃহীত ও কৃপাপ্রার্থী শিষ্য

৮১