পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

অগ্রসর হইবেন, ততই আমাদের কথার সারবত্তা বুঝিতে পারিবেন।

 যেদিন মীর লতিফের নিকট, জামাল খাঁ আনারের বিবাহ সম্বন্ধে সমস্ত কথা খুলিয়া বলেন, তাহার দুই এক দিন পরে মীর লতিফ, পীর মহরমে আসিয়া জুম্মাশার সহিত সাক্ষাৎ করিল।

 মীর লতিফের সৌভাগ্য, যে সে দিন অন্য কোন দর্শনার্থী ফকির-সাহেবের কক্ষে ছিল না। সুতরাং নির্জ্জনে পাইয়া সে আনারের সহিত তাহার বিবাহভঙ্গ সম্বন্ধে সমস্ত কথাই জুম্মাশাকে জানাইল।

 এই সুন্দরদর্শন মিষ্টভাষী সুচরিত্র যুবক মীরলতিফ‍্কে জুম্মাশা একটু স্নেহের চক্ষে দেখিতেন। লতিফের মুখে সমস্ত কথা শুনিয়া, তিনি গম্ভীর ভাব ধারণ করিলেন। তারপর মিষ্ট স্বরে মীর লতিফকে বলিলেন—“আনার যে কোন ধনবানের গৃহিণী হইবে, বহু পূর্ব্বে আমি তাহা জামালখাঁকে আভাস দিয়াছিলাম। বিধিলিপি— চিরদিনই অথণ্ডনীয়! এখন তোমার মনের সংকল্প কি-লতিফ্?”

 মীর লতিফ, জুম্মাশার মুখের দিকে বারেক মাত্র চাহিয়া আবার মুখ নত করিল। তাঁহার সে অন্তর্ভেদী দৃষ্টি, সে যেন সহ্য করিতে পারিল না। মুখ নীচু করিয়া সে মৃদুস্বরে বলিল—“আমি এখন আগরা ত্যাগ করিয়া দূর দেশে যাইতে চাই।”

 জুম্মাশা প্রসন্নবদনে বলিলেন—“তোমার এ সংকল্প শুভ,কেন না প্রলোভনের মুখ হইতে দূরে থাকাই ভাল। ত্যাগে মহত্ত্ব—ভোগে

৮৩