পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

একবার গোপনে সাক্ষাৎ করায় কি কোন পাপ আছে। প্রভু?”

 জুম্মাশা। তুমি আগরা ত্যাগ করিয়াই বা যাইবে কেন? অসংখ্য প্রলোভনের সম্মুখে থাকিয়া প্রবৃত্তি দমন করার অপেক্ষা, বোধ হয় বেশী গৌরবজনক কিছুই ত নয় মীর লতিফ!”

 মীর লতিফ মনে মনে বিচার করিয়া বুঝিল, ফকির জুম্মাশা যাহা বলিতেছেন,—তাহাই ঠিক। কিন্তু সে তাহার নিজের চিত্তের উপর ততটা বিশ্বাস করিতে পারিল না।

 সুতরাং সে বলিল— “প্রবৃত্তির সহিত সংগ্রাম করিয়া যাহাতে জয়লাভ করিতে পারি, প্রথমে তাহার চেষ্টা করিব। যদি না পারি, অগত্যা আমায় বাধ্য হইয়া এই আগরা হইতে চির বিদায় লইতে হইবে।”

 এই কথা বলিয়া মীর লতিফ, জুম্মাশার চরণ বন্দনা করিয়া তাঁহার নিকট হইতে বিদায় লইল বটে, কিন্তু আগরা ত্যাগের সংকল্পটা সে তাহার মন হইতে মুছিল না। কেন না! —চিত্ত তাহার বড়ই অবাধ্য।

 ভালবাসা এই জিনিষটা, বিরহের প্রথম সূচনায় যেন দপ্ করিয়া জ্বলিয়া উঠিয়া, তাহার পরিমাণটা যেন তাহার ভালবাসার পাত্রকে একটু বেশী করিয়া জানাইয়া দিয়া চলিয়া যায়। এই হতভাগ্য ও নিরাশচিত্ত মীর লতিফের তাহাই হইল।

 সে তাহার আবাস স্থানে ফিরিয়া আসিল বটে, কিন্তু সেখান হইতে যেন সকল সৌন্দর্য্য ঝরিয়া গিয়াছে। যেখানে থাকিয়া,

৮৫