পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

ভাবী মিলনের সুখস্বপ্নে বিভোর হইয়া, সে ধরাকে খুবই সুষমাময় দেখিত, সেদিন সেইখানে থাকিয়াই বুঝিল, জ্যোৎস্নালোকে হাস্যময়ী মেদিনীর বুক হইতে, যেন সকল শোভাই বিলুপ্ত হইয়াছে। তাহার চারিপাশে উষ্ণ নিশ্বাস বহিতেছে।

 লতিফ, সে দিন দেখিল, জ্যোৎস্নার সে শুভ্রজ্যোতিঃ নাই— ধীরে প্রবাহিত নৈশবায়ুতে সে স্নিগ্ধতা নাই। নৈশ সমীরণবাহিত পুষ্পবাসে সে সুগন্ধ নাই। সেনানিবাসের পার্শ্ববাহিনী যমুনার কল সঙ্গীতে যেন সে মধুর মিলনের সুরনিক্কণ নাই! হায়! কেন এমন হইল?

 সে বিষণ্ণ প্রকৃতির উপর বিরক্ত হইয়া, শয্যায় শুইল। হায়! সে শয্যাও যেন সুতীক্ষ্ণ কণ্টকময়। সে শয্যা হইতে উঠিয়া দাঁড়াইয়া, বাতায়ন পার্শ্বে আসিল। বোধ হইল, যেন তাহার পায়ের নীচের মেঝেটা ধীরে কাঁপিতেছে। সে সেই চন্দ্রালোকিত প্রকৃতির দিকে চাহিয়া, এক মর্ম্মভেদী দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিল। কিন্তু তাহাতে তাহার প্রাণের যন্ত্রণা না কমিয়া যেন আরও বাড়িয়া উঠিল। সে কিছুতেই বুঝিতে পারিল না—কিসে এ জ্বালা হইতে সে শান্তি পাইবে! সে বুঝিল এই অভিশপ্ত আগরায় থাকিলে শান্তির আশা যে অতি দুষ্কর।

 গভীর মর্ম্মবেদনায় অধীর হইয়া, সেই গভীর রাত্রে নিজের কক্ষ ত্যাগ করিয়া, সেনানিবাসের পার্শ্ববাহিনী যমুনার তীরে সে আসিল। নদীতীরে একটী প্রস্তরমণ্ডিত ক্ষুদ্র ঘাট। সে সেই

৮৬