পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

সুজাখাঁর বাগদত্তা পত্নী। তুমি আমার স্নেহময় ভ্রাতারূপে সেই মঙ্গলময় বিধাতার নিকট প্রার্থনা কর, যেন আমি প্রেমময়ী পত্নীরূপে, নূতন জীবনে স্বামীর প্রতি আমার মহাকর্ত্তব্যগুলি পালন করিতে পারি। আর আমার এই স্মৃতি হইতে অতীতের সমস্ত কথাই চিরজন্মের মত মুছিয়া ফেলিতে পারি।” এই কথা বলিয়া স্বপ্নদৃষ্টা সেই আনারউন্নিসা, যেন দর্পভরে তাহার শয্যা পার্শ্ব ত্যাগ করিতে উদ্যত হইল।

 মীরলতিফ্ স্বপ্নঘোরে যেন আনারকে ধরিতে গেল। কিন্তু পারিল না। সেই কক্ষমধ্যে কোথায় যে তাহার সেই তীব্র জ্যোতির্ম্ময়মূর্ত্তি সহসা বিলয় হইল, তাহাও সে বুঝিতে পারিল না!

 সহসা তাহার নিদ্রা ভাঙ্গিয়া গেল। সে নেত্রমার্জ্জনা করিয়া, নিদ্রার ঘোর কাটাইয়া লইয়া দেখিল—তখনও সূর্য্যোদয় হয় নাই। তবে প্রভাতকুসুমের সুগন্ধি পরাগ মাথিয়া, উষার স্নিগ্ধবায়ু তাহার ললাটে, সেই স্বপ্নজনিত উত্তেজনা সঞ্জাত ঘর্ম্মবিন্দুকে সযত্নে মুছাইয়া দিতেছে।

 লতিফ ভাবিল—“একি বিচিত্র স্বপ্ন! সত্যই কি আনারউন্নিসা আমার শয্যাশার্শ্বে আসিয়া আমায় মৃদু তিরস্কার করিয়া গেল! না—না—সবই মিথ্যা! সবই আমার অনুশোচনাময় উষ্ণ মস্তিষ্কের বিকৃত ক্রিয়া।

 তাহা হইলেও, সে আনারকে একখানি পত্র লিখিয়া ফেলিল। সে পত্রে কোন ক্ষোভ নাই—আক্ষেপ নাই, অনুরোধ নাই, তীব্র তিরষ্কার বা বিদ্রূপের লেশ পর্যন্ত নাই।

৯২