৷৵৹
জীবের অধীনে আসিয়া। তিন জনের অভিজ্ঞতা একই, শুধু অভিজ্ঞতা-সঞ্চয়ের সময়ে পার্থক্য।
অথচ এই তিনটি বিরহিণীর চরিত্র এক ছাঁচে ঢালা নহে। এত দুঃখ দৈন্যের মধ্যেও পরিত্যক্তা শান্তিকে কেহ কখন কাঁদিতে দেখে নাই (‘আনন্দমঠ’ ২-৭ বাদে)। সে কাঁদিয়াছিল শুধু একদিন, গ্রন্থ শেষে (৪-৭) সেই পূর্ণিমার রাত্রে, শেষ যুদ্ধের পর—
“বিজন বনে তমসা নিশীথে
মৃত পতি লয়ে কোলে সাবিত্রী দুঃখিনী”
যে জন্য কাঁদিয়াছিল।
আর প্রফুল্ল? তাহার প্রথম প্রথমকার কান্না দেখিয়া নয়ান বউয়ের বিষাক্ত বর্ণনা মনে পড়ে—
|
সাগর। দেখতে কেমন? নয়ন।...যেন গালফুলো গোবিন্দের মা। (৩-১৩)। |
কিন্তু সেই প্রফুল্লই যখন নিশ্চয় জানিল যে, শ্বশুর কিছুতেই তাহাকে বাড়ীতে স্থান দিবেন না, তখন, “প্রফুল্লের মাথায় বজ্রাঘাত হইল। সে মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল। কাঁদিল না—চুপ করিয়া রহিল।” (১-৩)। আবার পরদিন যখন সতীন তীক্ষ্ণ ছুরি মারিয়া বলিল, “দিদি, ঠাকুর তোমার কথার কি উত্তর দিয়াছেন, শুনেছ?—ঠাকুর বলিয়াছেন, [তোমাকে] চুরি ডাকাতি করিয়া খাইতে বলিও”— তখনও প্রফুল্ল কাঁদিল না, “দেখা যাবে” বলিয়া নীরবে বিদায় লইল। (১-৬)। জ্বলন্ত লোহা হাতুড়ির আঘাত পাইয়া শক্ত হইতে আরম্ভ করিল।
ইহার অতি অল্পকাল পরে, তাহার শিক্ষা আরম্ভ হইবার ঠিক পূর্ব্বে, সে একবার কাঁদিয়াছিল বটে, কিন্তু সেটা গার্হস্থ্য জীবনের শেষ আশাকে বিদায় দিবার জন্য নয় কি?
|
প্রফুল্ল। মেয়েমানুষের ভক্তির কি শেষ আছে? নিশি। মেয়েমানুষের ভালবাসার শেষ নাই। ভক্তি এক, ভালবাসা আর। প্রফুল্ল। আমি তা আজও জানিতে পারি নাই। আমার দুই নূতন। প্রফুল্লের চক্ষু দিয়া ঝরঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল। নিশি বলিল, “বুঝিয়াছি বোন্, তুমি অনেক দুঃখ পাইয়াছ।” নিশি তখন বুঝিল, ঈশ্বর ভক্তির প্রথম সোপন পতি-ভক্তি। (১-১৩)। |
কিন্তু দশ বৎসরের কঠোর ব্রহ্মচর্য্য-সাধনা ও আত্মসংযমের ফলে এই কোমল বাঙ্গালীর মেয়ে নিষ্কাম ধর্ম্ম শিখিয়াছে, অশ্রু সম্বরণ করিতে পারে। অবশেষে যখন