প্র। ও সকল কথা এখন থাক্—যাহা বলিতেছিলাম, তা বলিয়া শেষ করি, যাহা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিতে পারিতেছিলে না, তা যেমন দূরবীক্ষণের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করিলে, তেমন ঈশ্বরকে মানস প্রত্যক্ষ করিতে দূরবীণ চাই।
দিবা। মনের আবার দূরবীণ কি?
প্র। যোগ।
দিবা। কি—সেই ন্যাস, প্রাণায়াম, কুম্ভক, বুজরুকী, ভেল্কী—
প্র। তাকে আমি যোগ বলি না। যোগ অভ্যাস মাত্র। কিন্তু সকল অভ্যাসই যোগ নয়। তুমি যদি দুধ ঘি খাইতে অভ্যাস কর, তাকে যোগ বলিব না। তিনটি অভ্যাসকেই যোগ বলি।
দিবা। কি কি তিনটি?
প্র। জ্ঞান, কর্ম্ম, ভক্তি। জ্ঞানযোগ, কর্ম্মযোগ, ভক্তিযোগ।
ততক্ষণ নিশি দূরবীণ লইয়া এ দিক্ ও দিক্ দেখিতেছিল। দেখিতে দেখিতে বলিল, “সম্প্রতি উপস্থিত গোলযোগ।”
প্র। সে আবার কি? আবার গোলযোগ কি?
নিশি। একখানা পান্সী আসিতেছে। বুঝি ইংরাজের চর।
প্রফুল্ল নিশির হাত হইতে দূরবীণ লইয়া পান্সী দেখিল। বলিল, “এই আমার সুযোগ। তিনিই আসিতেছেন। তোমরা নীচে যাও।”
দিবা ও নিশি ছাদ হইতে নামিয়া কামরার ভিতর গেল। পান্সী ক্রমে বাহিয়া আসিয়া বজরার গায়ে লাগিল। সেই পান্সীতে—ব্রজেশ্বর। ব্রজেশ্বর, লাফাইয়া বজরায় উঠিয়া, পান্সী তফাতে বাঁধিয়া রাখিতে হুকুম দিলেন। পান্সীওয়ালা তাহাই করিল।
ব্রজেশ্বর নিকটে আসিলে, প্রফুল্ল উঠিয়া দাঁড়াইয়া আনত মস্তকে তাঁহার পদধূলি গ্রহণ করিল। পরে উভয়ে বসিলে, ব্রজেশ্বর বলিল, “আজ টাকা আনিতে পারি নাই, দুই চারি দিনে দিতে পারিব বোধ হয়। দুই চারি দিনের পরে কবে কোথায় তোমার সঙ্গে দেখা হইবে, সেটা জানা চাই।”
ও ছি! ছি! ব্রজেশ্বর! দশ বছরের পর প্রফুল্লের সঙ্গে এই কি কথা!
দেবী উত্তর করিল, “আমার সঙ্গে আর সাক্ষাৎ হইবে না—” বলিতে বলিতে দেবীর গলাটা বুজিয়া আসিল—দেবী একবার চোখ মুছিল—“আমার সঙ্গে আর দেখা হবে না,