শুনিয়া নিশি ও দিবা খিল্ খিল্ করিয়া হাসিয়া উঠিল। দেবী বলিল, “বাঁধিও না। এখন গোপনে ছাদের উপর বসিয়া থাকিতে বল। পরে যখন দিবা নামিতে হুকুম দিবে, তখন নামিবেন।”
আজ্ঞামত রঙ্গরাজ আগে ব্রজেশ্বরকে ছাদে বসাইল। তার পর ভবানী ঠাকুরের কাছে গেল, এবং দেবী যাহা বলিতে বলিয়াছিলেন, তাহা বলিল। রঙ্গরাজ মেঘ দেখাইল―ভবানী দেখিল। ভবানী আর আপত্তি না করিয়া, তীরের ও জলের বর্কন্দাজ সকল জমা করিয়া লইয়া, ত্রিস্রোতার তীরে তীরে স্বস্থানে যাইবার উদ্যোগ করিল।
এ দিকে দিবা ও নিশি, এই অবসরে বাহিরে আসিয়া, বর্কন্দাজবেশী দাঁড়ী মাঝিদিগকে চুপি চুপি কি বলিয়া গেল।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
এ দিকে ভবানী ঠাকুরকে বিদায় দিয়া, রঙ্গরাজ শাদা নিশান হাতে করিয়া, জলে নামিয়া লেফ্টেনাণ্ট্ সাহেবের ছিপে গিয়া উঠিল। শাদা নিশান হাতে দেখিয়া কেহ কিছু বলিল না। সে ছিপে উঠিলে, সাহেব তাহাকে বলিলেন, “তোমরা শাদা নিশান দেখাইয়াছ, ধরা দিবে?”
রঙ্গ। আমরা ধরা দিব কি? যাঁহাকে ধরিতে আসিয়াছেন, তিনিই ধরা দিবেন, সেই কথা বলিতে আসিয়াছি।
সাহেব। দেবী চৌধুরাণী ধরা দিবেন?
রঙ্গ। দিবেন। তাই বলিতে আমাকে পাঠাইয়াছেন।
সা। আর তোমরা?
রঙ্গ। আমরা কারা?
সা। দেবী চৌধুরাণীর দল।
রঙ্গ। আমরা ধরা দিব না।
সা। আমি দল শুদ্ধ ধরিতে আসিয়াছি।
রঙ্গ। এই দল কারা? কি প্রকারে এই হাজার বর্কন্দাজের মধ্যে দল বেদল চিনিবেন?