নিশি চোক টিপিয়া বলিল, “আমার প্রার্থনা মঞ্জুর হইয়াছে। তুমি স্নানাহ্নিক করিয়া আইস।”
নিশি রঙ্গরাজের কাণে কাণে বলিল, “পাহারা মানে জল-আচরণী ভৃত্য।” রঙ্গরাজ সেইরূপ বন্দোবস্ত করিয়া হরবল্লভকে স্নানাহ্নিকে নামাইয়া দিল।
তখন দেবী নিশিকে বলিল, “সাহেবটাকে ছাড়িয়া দিতে বল। সাহেবকে রঙ্গপুর ফিরিয়া যাইতে বল। রঙ্গপুর অনেক দূর, এক শত মোহর উহাকে পথথরচ দাও, নহিলে এত পথ যাইবে কি প্রকারে?”
নিশি শত স্বর্ণ লইয়া গিয়া রঙ্গরাজকে দিল, আর কাণে কাণে উপদেশ দিল। উপদেশে দেবী যাহা বলিয়াছিল, তাহা ছাড়া আরও কিছু ছিল।
রঙ্গরাজ তখন দুই জন বরকন্দাজ লইয়া আসিয়া সাহেবকে ধরিল। বলিল, “উঠ।”
সাহেব। কোথা যাইতে হইবে?
রঙ্গ। তুমি কয়েদী—জিজ্ঞাসা করিবার কে?
সাহেব বাক্যব্যয় না করিয়া রঙ্গরাজের পিছু পিছু দুই জন বরকন্দাজের মাঝে চলিল। যে ঘাটে হরবল্লভ স্নান করিতেছিলেন, সেই ঘাট দিয়া তাহারা যায়।
হরবল্লভ জিজ্ঞাসা করিল, “সাহেবকে কোথায় লইয়া যাইতেছ?”
রঙ্গরাজ বলিল, “এই জঙ্গলে।”
হর। কেন?
রঙ্গ। জঙ্গলের ভিতর গিয়া উহাকে ফাঁসি দিব।
হরবল্লভের গা কাঁপিল। সে সন্ধ্যা-আহ্নিকের সব মন্ত্র ভুলিয়া গেল। সন্ধ্যাহ্নিক ভাল হইল না।
রঙ্গরাজ জঙ্গলে সাহেবকে লইয়া গিয়া বলিল, “আমরা কাহাকে ফাঁসি দিই না। তুমি ঘরের ছেলে ঘরে যাও, আমাদের পিছনে আর লেগো না। তোমাকে ছাড়িয়া দিলাম।”
সাহেব প্রথমে বিস্ময়াপন্ন হইল—তার পর ভাবিল, “ইংরেজকে ফাঁসি দেয়, বাঙ্গালীর এত কি ভরসা?”
তার পর রঙ্গরাজ বলিল, “সাহেব। রঙ্গপুর অনেক পথ, যাবে কি প্রাকরে?”
সাহেব। যে প্রকারে পারি।
রঙ্গ। নৌকা ভাড়া কর, নয় গ্রামে গিয়া ঘোড়া কেন—নয় পাল্কী কর। তোমাকে আমাদের রাণী এক শত মোহর পথখরচ দিয়াছেন।