এইরূপ রুষ্ট ও ক্ষুণ্ণভাবে সাগর শ্বশুরবাড়ী আসিল। আসিয়াই প্রথমে নয়ান বৌয়ের কাছে গেল। নয়ান বৌ, সাগরের দুই চক্ষের বিষ; সাগর বৌ, নয়ানেরও তাই। কিন্তু আজ দুই জন এক, দুই জনের এক বিপদ্। তাই ভাবিয়া সাগর আগে নয়নতারার কাছে গেল।
সাপকে হাঁড়ির ভিতর পূরিলে, সে যেমন গর্জ্জিতে থাকে, প্রফুল্ল আসা অবধি নয়নতারা সেইরূপ করিতেছিল। একবার মাত্র ব্রজেশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইয়াছিল—গালির চোটে ব্রজেশ্বর পলাইল, আর আসিল না। প্রফুল্লও ভাব করিতে গিয়াছিল, কিন্তু তারও সেই দশা ঘটিল। স্বামী সপত্নী দূরে থাক্, পাড়া প্রতিবাসীও সে কয় দিন নয়নতারার কাছে ঘেঁসিতে পারে নাই। নয়নতারার কতকগুলি ছেলে মেয়ে হইয়াছিল। তাদেরই বিপদ্ বেশী। এ কয় দিন মার খাইতে খাইতে তাদের প্রাণ বাহির হইয়া গেল।
সেই দেবীর শ্রীমন্দিরে প্রথম সাগর গিয়া দেখা দিলেন। দেখিয়া নয়নতারা বলিল, “এসো, এসো। তুমি বাকী থাক কেন? আর ভাগীদার কেউ আছে?”
সাগর। কি! আবার না কি বিয়ে করেছে?
নয়ন। কে জানে, বিয়ে কি নিকে, তার খবর আমি কি জানি?
সাগর। বামনের মেয়ের কি আবার নিকে হয়?
নয়ন। বামন, কি শূদ্র, কি মুসলমান, তা কি আমি দেখ্তে গেছি?
সাগর! অমন কথাগুলো মুখে এনো না। আপনার জাত বাঁচিয়ে সবাই কথা কয়।
নয়ন। যার ঘরে অত বড় কনে বৌ এলো, তার আবার জাত কি?
সাগর। কত বড় মেয়ে? আমাদের বয়স হবে?
নয়ন। তোর মার বয়সী।
সাগর। চুল পেকেছে?
নয়ন। চুল না পাক্লে আর রাত্রি দিন বুড়ো মাগী ঘোম্টা টেনে বেড়ায়?
সা। দাঁত পড়েছে?
ন। চুল পাক্লো, দাঁত আর পড়ে নি?
সা। তবে স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় বল?
ন। তবে শুন্চিস্ কি?
সা। তাও কি হয়?