ন। কুলীনের ঘরে এ সব হয়।
সা। দেখতে কেমন?
ন। রূপের ধ্বজা! যেন গালফুলো গোবিন্দের মা।
সা। যে বিয়ে ক’রেছে, তাকে কিছু বল নি?
ন। দেখ্তে পাই কি? দেখতে পেলে হয়। মুড়ো ঝাঁটা তুলে রেখেছি।
সা। আমি তবে সে সোণার প্রতিমাখানা দেখে আসি।
ন। যা, জন্ম সার্থক কর্গে, যা।
নূতন সপত্নীকে খুঁজিয়া, সাগর তাহাকে পুকুর-ঘাটে ধরিল। প্রফুল্ল পিছন ফিরিয়া বাসন মাজিতেছিল। সাগর পিছনে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “হ্যাঁ গা, তুমি আমাদের নূতন বৌ?”
“কে, সাগর এয়েছ?” বলিয়া নূতন বৌ সমুখ ফিরিল।
সাগর দেখিল, কে। বিস্ময়াপন্না হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “দেবী রাণী!”
প্রফুল্ল বলিল, “চুপ্। দেবী মরিয়া গিয়াছে।”
সা। প্রফুল্ল?
প্র। প্রফুল্লও মরিয়াছে।
সা। কে তবে তুমি?
প্র। আমি নূতন বৌ।
সা। কেমন ক’রে কি হলো, আমায় সব বল দেখি।
প্র। এখানে বলিবার জায়গা নয়। আমি একটি ঘর পাইয়াছি, সেইখানে চল, সব বলিব।
দুই জনে দ্বার বদ্ধ করিয়া, বিরলে বসিয়া, কথোপকথন হইল। প্রফুল্ল সাগরকে সব বুঝাইয়া বলিল। শুনিয়া সাগর জিজ্ঞাসা করিল, “এখন গৃহস্থালীতে কি মন টিঁকিবে? রূপার সিংহাসনে বসিয়া, হীরার মুকুট পরিয়া, রাণীগিরির পর কি বাসনমাজা, ঘরঝাঁট দেওয়া ভাল লাগিবে? যোগশাস্ত্রের পর কি ব্রহ্মঠাকুরাণীর রূপকথা ভাল লাগিবে? যার হুকুমে দুই হাজার লোক খাটিত, এখন হারির মা, পারির মার হুকুম-বর্দারি কি তার ভাল লাগিবে?”
প্র। ভাল লাগিবে বলিয়াই আসিয়াছি। এই ধর্ম্মই স্ত্রীলোকের ধর্ম্ম; রাজত্ব স্ত্রীজাতির ধর্ম্ম নয়। কঠিন ধর্ম্মও এই সংসারধর্ম্ম; ইহার অপেক্ষা কোন যোগই কঠিন