প্রফুল্লের বিষয়বুদ্ধি, বুদ্ধির প্রাখর্য্য ও সদ্বিবেচনার গুণে, সংসারের বিষয়কর্ম্মও তাহার হাতে আসিল। তালুক মুলুকের কাজ বাহিরে হইত বটে, কিন্তু একটু কিছু বিবেচনার কথা উঠিলে, কর্ত্তা আসিয়া গিন্নীকে বলিতেন, “নূতন বৌমাকে জিজ্ঞাসা কর দেখি, তিনি কি বলেন?” প্রফুল্লের পরামর্শে সব কাজ হইতে লাগিল বলিয়া, দিন দিন লক্ষ্মী-শ্রী বাড়িতে লাগিল। শেষ যথাকালে ধন জন ও সর্ব্বসুখে পরিবৃত হইয়া হরবল্লভ পরলোকে গমন করিলেন।
বিষয় ব্রজেশ্বরের হইল। প্রফুল্লের গুণে ব্রজেশ্বরের নূতন তালুক মুলুক হইয়া হাতে অনেক নগদ টাকা জমিল। তখন প্রফুল্ল বলিল, “আমার সেই পঞ্চাশ হাজার টাকা কর্জ্জ শোধ কর।”
ব্র। কেন, তুমি টাকা লইয়া কি করিবে?
প্র। আমি কিছু করিব না। কিন্তু টাকা আমার নয়—শ্রীকৃষ্ণের;—কাঙ্গাল গরিবের। কাঙ্গাল গরিবকে দিতে হইবে।
ব্র। কি প্রকারে?
প্র। পঞ্চাশ হাজার টাকায় এক অতিথিশালা কর।
ব্রজেশ্বর তাই করিল। অতিথিশালামধ্যে এক অন্নপূর্ণা-মূর্ত্তি স্থাপন করিয়া, অতিথিশালার নাম দিল, “দেবীনিবাস।”
যথাকালে পুত্র-পৌত্ত্রে সমাবৃত হইয়া, প্রফুল্ল স্বর্গারোহণ করিল। দেশের লোক সকলেই বলিল, “আমরা মাতৃহীন হইলাম।”
রঙ্গরাজ, দিবা ও নিশি, দেবীগড়ে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের প্রসাদভোজনে জীবন নির্ব্বাহ করিয়া, পরলোকে গমন করিলেন। ভবানী ঠাকুরের অদৃষ্টে সেরূপ ঘটিল না।
ইংরেজ রাজ্য শাসনের ভার গ্রহণ করিল। রাজ্য সুশাসিত হইল। সুতরাং ভবানী ঠাকুরের কাজ ফুরাইল। দুষ্টের দমন রাজাই করিতে লাগিল। ভবানী ঠাকুর ডাকাইতি বন্ধ করিল।
তখন ভবানী ঠাকুর মনে করিল, “আমার প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন।” এই ভাবিয়া ভবানী ঠাকুর ইংরেজকে ধরা দিলেন, সকল ডাকাইতি একরার করিলেন, দণ্ডের প্রার্থনা করিলেন। ইংরেজ হুকুম দিল, “যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে বাস।” ভবানী পাঠক প্রফুল্লচিত্তে দ্বীপান্তরে গেল।