ব্রহ্ম। অমন কথা বলিস্ নে—বড় ডাকাতের ভয়! কি, দেখা কর্বি?
ব্রজ। তা নহিলে কি তোমার মালাজপা দেখ্তে এসেছি?
ব্রহ্ম। সাগর বৌয়ের কাছে যা।
ব্রজ। সতীনে কি সতীনকে দেখায়?
ব্রহ্ম। তুই যা না। সাগর তোকে ডেকেছে, ঘরে গিয়ে বসে আছে। অমন মেয়ে আর হয় না।
ব্রজ। চরকা ভেঙ্গেছে ব’লে? নয়ানকে বলে দেব—সে যেন একটা চরকা ভেঙ্গে দেয়।
ব্রহ্ম। হাঁ—সাগরে, আর নয়ানে! যা যা!
ব্রজ। গেলে বাগ্দিনী দেখ্তে পাব?
ব্রহ্ম। বুড়ীর কাথাটাই শোন্ না; কি জ্বালাতেই পড়লেম গা? আমার মালা জপা হলো না। তোর ঠাকুরদাদার তেষট্টিটা বিয়ে ছিল—কিন্তু চৌদ্দ বছরই হোক্—আর চুয়াত্তর বছরই হোক্—কই, কেউ ডাক্লে ত কখন ‘না’ বলিত না।
ব্রজ। ঠাকুরদাদার অক্ষয় স্বর্গ হৌক্—আমি চৌদ্দ বছরের সন্ধানে চলিলাম। ফিরিয়া আসিয়া চুয়াত্তর বছরের সন্ধান লইব কি?
ব্রহ্ম। যা যা যা! আমার মালা জপা ঘুরে গেল। আমি নয়নতারাকে বলে দিব, তুই বড় চেঙ্গড়া হয়েছিস্।
ব্রজ। ব’লে দিও। খুসী হ’য়ে দুটো ছোলাভাজা পাঠিয়ে দেবে।
এই বলিয়া ব্রজেশ্বর সাগরের সন্ধানে প্রস্থান করিলেন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
সাগর শ্বশুরবাড়ী আসিয়া দুইটি ঘর পাইয়াছিল, একটি নীচে, একটি উপরে।
নীচের ঘরে বসিয়া সাগর পান সাজিত, সমবয়স্কদিগের সঙ্গে খেলা করিত, কি গল্প করিত। উপরের ঘরে রাত্রে শুইত; দিনমানে নিদ্রা আসিলে সেই ঘরে গিয়া দ্বার দিত। অতএব ব্রজেশ্বর, ব্রহ্মঠাকুরাণীর উপকথার জ্বালা এড়াইয়া সেই উপরের ঘরে গেলেন।
সেখানে সাগর নাই—কিন্তু তাহার পরিবর্ত্তে আর এক জন কে আছে। অনুভবে বুঝিলেন, এই সেই প্রথম স্ত্রী।