ব্রাহ্মণ। এদিকে হাটের পথ কোথা?
প্র। তবে কোন্ দিকে?
ব্রা। তুমি কোথা হইতে আসিতেছ?
প্র। এই জঙ্গল হইতেই।
ব্রা। এই জঙ্গলে তোমার বাস?
প্র। হাঁ।
ব্রা। তবে তুমি হাটের পথ চেন না?
প্র। আমি নূতন আসিয়াছি।
ব্রা। এ বনে কেহ ইচ্ছাপূর্ব্বক আসে না। তুমি কেন আসিলে?
প্র। আমাকে হাটের পথ বলিয়া দিন।
ব্রা। হাট এক বেলার পথ। তুমি একা যাইতে পারিবে না। চোর ডাকাইতের বড় ভয়। তোমার আর কে আছে?
প্র। আর কেহ নাই।
ব্রাহ্মণ অনেক ক্ষণ ধরিয়া প্রফুল্লের মুখপানে চাহিয়া দেখিল। মনে মনে বলিল, “এ বালিকা সকল সুলক্ষণযুক্তা। ভাল, দেখা যাউক, ব্যাপারটা কি?” প্রকাশ্যে বলিল, “তুমি একা হাটে যাইও না। বিপদে পড়িবে। এইখানে আমার একখানা দোকান আছে। যদি ইচ্ছা হয়, তবে সেখান হইতে চাল দাল কিনিতে পার।”
প্রফুল্ল বলিল, “সেই হলে ভাল হয়। কিন্তু আপনাকে ত ব্রাহ্মণপণ্ডিতের মত দেখিতেছি।”
ব্রা। ব্রাহ্মণপণ্ডিত অনেক রকমের আছে। বাছা!! তুমি আমার সঙ্গে এস।
এই বলিয়া ব্রাহ্মণ প্রফুল্লকে সঙ্গে করিয়া আরও নিবিড়তর জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করিল। প্রফুল্লের একটু একটু ভয় করিতে লাগিল, কিন্তু এ বনে কোথায় বা ভয় নাই? দেখিল, সেখানে একখানি কুটীর আছে—তালা চাবি বন্ধ, কেহ নাই। ব্রাহ্মণ তালা চাবি খলিল। প্রফুল্ল দেখিল,—দোকান নয়, তবে হাঁড়ি, কলসী, চাল, দাল, নুন, তেল যথেষ্ট আছে। ব্রাহ্মণ বলিল, “তুমি যাহা একা বহিয়া লইয়া যাইতে পার, লইয়া যাও।”
প্রফুল্ল যাহা পারিল, তাহা লইল। জিজ্ঞাসা করিল, “দাম কত দিতে হইবে?”
ব্রা। এক আনা।
প্র। আমার নিকট পয়সা নাই।