রঙ্গরাজ তখন ব্রজেশ্বরকে ইঙ্গিত করিল। ব্রজেশ্বর ছিপ হইতে উঠিয়া আসিয়া দ্বারে দাড়াইল।
দেবী জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি কে?” দেবীর যেন বিষম লাগিয়াছে—গলার আওয়াজটা বড় সাফ নয়।
ব্রজেশ্বর যেরূপ লোক, পাঠক এতক্ষণে বুঝিয়াছেন বোধ হয়। ভয় কাহাকে বলে, তাহা তিনি বালককাল হইতে জানেন না। যে দেবী চৌধুরাণীর নামে উত্তর-বাঙ্গালা কাঁপিত, তাহার কাছে আসিয়া ব্রজেশ্বরের হাসি পাইল। মনে ভাবিলেন, “মেয়েমানুষকে পুরুষে ভয় করে, এ ত কখনও শুনি নাই। মেয়েমানুষ ত পুরুষের বাঁদী।” হাসিয়া ব্রজেশ্বর দেবীর কথায় উত্তর দিলেন, “পরিচয় লইয়া কি হইবে? আমার ধনের সঙ্গে আপনাদিগের সম্বন্ধ, তাহা পাইয়াছেন—নামে ত টাকা হইবে না।”
দেবী। হইবে বৈ কি? আপনি কি দরের লোক, তাহা জানিলে টাকার ঠিকানা হইবে। (তবু গলাটা ধরা ধরা।)
ব্রজ। সেই জন্যই কি আমাকে ধরিয়া আনিয়াছেন?
দেবী। নহিলে আপনাকে আমরা আনিতাম না।
দেবী পরদার আড়ালে; কেহ দেখিল না যে, দেবী এই কথা বলিবার সময় চোখ মুছিল।
ব্রজ। আমি যদি বলি, আমার নাম দুঃখিরাম চক্রবর্ত্তী, আপনি বিশ্বাস করিবেন কি?
দেবী। না।
ব্রজ। তবে জিজ্ঞাসার প্রয়োজন কি?
দেবী। আপনি বলেন কি না, দেখিবার জন্য।
ব্রজ। আমার নাম কৃষ্ণগোবিন্দ ঘোষাল।
দেবী। না।
ব্রজ। দয়ারাম বক্সী।
দেবী। তাও না।
ব্রজ। ব্রজেশ্বর রায়।
দেবী। হইতে পারে।
এই সময়ে দেবীর কাছে আর একজন স্ত্রীলোক নিঃশব্দে আসিয়া বসিল। বলিল, “গলাটা ধ’রে গেছে যে?”