পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুনিবামাত্র বজরায় যাহার যাহার হাতে অস্ত্র ছিল, সব জলে ফেলিক্স দিল । রঙ্গরাজও আপনার অন্ত্র সকল জলে ফেলিয়া দিল। দেখিয়া সাহেব সন্তুষ্ট হইলেন, বলিলেন, “চল, এখন । বজরায় গিয়া দেখি, কি আছে ?" - . . . রঙ্গ সাহেব, আপনি জোর করিয়া বজরায় যাইতেছেন, আমার দোষ নাই। সা। তোমার আবার দোষ কি ? " * এই বলিয়া সাহেব একজন মাত্র সিপাহী সঙ্গে লইয়া সশস্ত্রে বজরায় উঠিলেন । এটা বিশেষ সাহসের কাজ নহে ; কেন না, বজরার উপর যে কয়জন লোক ছিল, তাহারা সকলেই অস্ত্র ত্যাগ করিয়াছে। সাহেব বুঝেন নাই যে, দেবীর স্থিরবুদ্ধিই শাণিত মহাস্ত্র ; তার অন্ত অস্ত্রের প্রয়োজন নাই সাহেব রঙ্গরাজের সঙ্গে কামরার দরজায় আসিলেন। দ্বার তৎক্ষণাৎ মুক্ত হইল । উভয়ে ভিতরে প্রবেশ করিলেন । প্রবেশ করিয়া যাহা দেখিলেন, তাহাতে দুই জনেই বিস্মিত হইলেন । দেখিলেন, যেদিন প্রথম ব্রজেশ্বর বন্দী হইয়া এই ঘরে প্রবেশ করিয়াছিলেন, সেদিন যেমন ইহার মনোহর সজ্জা, আজিও সেইরূপ ; দেয়ালে তেমনি চারু চিত্র । তেমনি সুন্দর গালিচা পাতা। তেমনি আতরদান, গোলাবপাশ, তেমনি সোনার পুষ্পপাত্রে ফুল ভর, সোনার আলবোলায় তেমনি মৃগনাভিগন্ধি তামাকু সাজা। তেমনি রূপার পুতুল, রূপার ঝাড়, সোনার শিকলে দোলান সোনার প্রদীপ, কিন্তু আজ একটা মসনদ নয়—জুইটা। দুইটা মসনদের উপর সুবর্ণমণ্ডিত উপাধানে দেহ রক্ষা করিয়া, দুইটি সুন্দরী রহিয়াছে। ভাহাদের পরিধানে মহাৰ্ঘ বস্ত্র, সৰ্ব্বাঙ্গে মহামূল্য রত্নভূষা। সাহেব তাদের চেনে না-রঙ্গরাজ চিনিল। চিনিল যে, একজন নিশি—আর একজন দিবা । সাহেবের জন্ত একখানা রূপার চৌকি রাখা হইয়াছিল, সাহেব তাহাতে বসিলেন । রঙ্গরাজ খুজিতে লাগিলেন, দেবী কোথা ? দেখিলেন, কামরার এক ধারে দেবীর সহজ বেশে দেবী দাড়াইয়া আছে, গড়া পর, কেবল কড় হাতে, এলোচুল, কোন বেশভূষা নাই । সাহেব জিজ্ঞাসা করিলেন, “কে দেবী চৌধুরাণী ! কাহার সঙ্গে কথা কহিব ?” নিশি বলিল, “আমার সঙ্গে কথা কহিবেন । আমি দেবী।" | দিব হাসিল, বলিল, “ইংরেজ দেখিয়া রঙ্গ করিতেছিস্ ! এ কি রঙ্গের সময় ? }\r - DDD uBB DDD DBB BBBB BBB BBB BBB BBB BB BB BB S -