পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- স্বাদশ পরিচ্ছেদ ভূতনাথের ঘাটে প্রফুল্পের বজরা ভিড়িবামাত্র, কে জানে কোথা দিয়া, গ্রামময় রাষ্ট্র হইল যে, ব্রজেশ্বর আবার একটা বিয়ে করে এনেছে ; বড় না কি ধেড়ে বেী। সুতরাং ছেলে বুড়ে, কাণ খোড়া যে যেখানে ছিল, সব বে। দেখিতে ছুটিল। ষে রাধিতেছিল, সে হাড়ি ফেলিয়া ছুটিল ; যে মাছ কুটিতেছিল, সে মাছে চুপড়ি চাপা দিয়া ছুটিল ; যে স্নান করিতেছিল, সে ভিজে কাপড়ে ছুটিল। যে খাইতে বসিয়াছিল, তার আধপেটা বৈ খাওয়া হইল না। যে কোন্দল করিতেছিল, শত্রুপক্ষের সঙ্গে হঠাৎ তার মিল হইয় গেল। যে মাগী ছেলে ঠেঙ্গাইতেছিল, তার ছেলে সে যাত্র বাচিয়া গেল, মার কোলে উঠিয়৷ ধেড়ে বে। দেখিতে চলিল। কাহারও স্বামী আহারে বসিয়াছেন, পাতে ডাল তরকারী পড়িয়াছে, মাছের ঝোল পড়ে নাই, এমন সময়ে বেয়ের খবর আসিল, আর তার কপালে সেদিন মাছের ঝোল হইল না। এইমাত্র বুড়ী নাতিনীর সঙ্গে কাজিয়া করিতেছিল যে, “আমার হাত ধরিয়ু না নিয়ে গেলে, আমি কেমন করে পুকুরঘাটে যাই ?” এমন সময়ে গোল হইল—বে এসেছে, অমনি নাতিনী আয়ি ফেলিয়া বোঁ দেখিতে গেল, আয়িও কোন রকমে সেইখানে উপস্থিত। এক যুবতী মার কাছে তিরস্কার খাইয়া শপথ করিতেছিলেন যে, তিনি কখন বাহির হন না, এমন সময়ে বে আসার সংবাদ পৌঁছিল, শপথটা সম্পূর্ণ হইল না; যুবতী বেয়ের বাড়ীর দিকে ' ছুটিলেন। মা শিশু ফেলিয়া ছুটিল, শিশু মার পিছু পিছু কাদিতে কাদিতে ছুটিল। ভাশুর, স্বামী বসিয়া আছে, ভ্রাতৃবধু মানিল না, ঘোমটা টানিয়া সম্মুখ দিয়া চলিয়া গেল। ছুটিতে যুবতীদের কাপড় খসিয়া পড়ে, আঁটিয়া পরিবার অবকাশ নাই। চুল খুলিয়া পড়ে, জড়াইবার অবকাশ নাই। সামলাইতে কোথাকার কাপড় কোথায় টানেন, তারও বড় ঠিক নাই। হুলস্থূল পড়িয়া গেল। লজ্জায় লণ্ডঞ্জাদেৰী পলায়ন করিলেন। বর-কন্যা আসিয়া পিড়ির উপর দাড়াইয়াছে, গিন্নী বরণ করিতেছেন । বৌয়ের মুখ দেখিবার জন্য লোকে ঝুঁকিয়াছে, কিন্তু বেী বৌগিরির চাল ছাড়ে না, দেড় হাত ঘোমটা টানিয়া রাখিয়াছে, কেহ মুখ দেখিতে পায় না। শাশুড়ী বরণ করিবার সময়ে একবার ঘোমটা খুলিয়া বধূর মুখ দেখিলেন। একটু চমকিয় উঠিলেন, আর কিছু বলিলেন না, কেবল বলিলেন, “বে বউ " তার চোখে একটু জল আসিল। - বরণ হইয়া গেলে, বন্ধু ঘরে তুলিয়া শাশুড়ী সমবেত প্রতিবাসিনীদিগকে বললেন, “ম! আমার বেটা বউ অনেক দূর থেকে আসিতেছে, ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর। আমি এখন ওদের ।