পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬ দেবী চৌধুরাণী - . পাড়ার পাঁচ জন, যাহারা তাহার অমূলক কলঙ্ক রটাইয়াছিল, তাহারাই আসিয়া প্রফুল্লের মার সৎকার করিল । বাঙ্গালীরা এ সময় শক্রত রাখে না। বাঙ্গালী জাতির সে গুণ আছে । প্রফুল্ল একা। পাড়ার পাঁচ জন আসিয়া বলিল, “তোমাকে চতুর্থের শ্রাদ্ধ করিতে হইবে।” প্রফুল্ল বলিল, “ইচ্ছ, পিণ্ডদান করি—কিন্তু কোথায় কি পাইব ?” পাড়ার পাঁচ জন বলিল, “তোমায় কিছু করিতে হইবে না—আমরা সব করিয়া লইতেছি।” কেহ কিছু নগদ দিল, কেহ কিছু সামগ্ৰী দিল, এইরূপ করিয়া শ্রাদ্ধ ও ব্রাহ্মণ-ভোজনের উদ্যোগ হইল। প্রতিবাসীরা আপনারাই সকল উদ্যোগ করিয়া লইল । একজন প্রতিবাসী বলিল, “একটা কথ মনে হইতেছে । তোমার মার শ্রাদ্ধে তোমার শ্বশুরকে নিমন্ত্রণ করা উচিত কি না ?” প্রফুল্ল বলিল, “কে নিমন্ত্রণ করিতে যাইবে ?” দুই জন পাড়ার মাতববর লোক অগ্রসর হইল। সকল কাজে তাহারাই আগু হয়— তাদের সেই রোগ। প্রফুল্ল বলিল, “তোমরাই আমাদের কলঙ্ক রটাইয়া সে ঘর ঘূচাইয়াছ (” তাহারা বলিল, “সে কথা আর মনে করিও না । আমৱা সে কথা সারিয়া লইব । তুমি এখন অনাথা বালিকা—তোমার সঙ্গে আর আমাদের কোন বিবাদ নাই।” প্রফুল্ল সম্মত হইল। দুই জন তরবল্লভকে নিমন্ত্রণ করিতে গেল। হরবল্লভ বলিলেন, “কি ঠাকুর ! তোমরাই বিহাইনকে জাতিভ্রষ্টা বলিয়া তাকে একঘরে করেছিলে—আবার তোমাদেরই মুখে এই কথা ?” রাহ্মণের বলিল, “সে কি জানেন-অমন পাড়াপড়সীতে গোলযোগ হয়—সেটা কোন কাজের কথা নয় ।” হরবল্লভ বিষয়ী লোক—ভাবিলেন, “এ সব জুয়াচুরি। এ বেটার বাগদী বেটার কাছে । টাকা খাইয়াছে । ভাল, বাগদী বেটী টাকা পাইল কোথা ?” অতএব হরবল্লভ নিমন্ত্রণের কথায় কর্ণপাতও করিলেন না। র্তাহার মন প্রফুল্লের প্রতি বরং আরও নিষ্ঠুর ও ক্রুদ্ধ হইয়া ਚੋਠਿੰਡਾ | - ব্ৰজেশ্বর এ সকল শুনিল। মনে করিল, “এক দিন রাত্রে লুকাইয়া গিয়া প্রফুল্লকে দেখিয়া আসিব । সেই রাত্রেই ফিরিব।” - - প্রতিবাসীরা নিষ্ফল হইয়া ফিরিয়া আসিলেন। প্রফুল্ল যথারীতি মাতৃশ্ৰাদ্ধ করিয়া প্রতিবাসীদিগের সাহায্যে ব্রাহ্মণ-ভোজন সম্পন্ন করিল। ব্রজেশ্বর যাইবার সময় খুজিতে লাগিল ।