পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९४ - দেবী চৌধুরাণী ফুলমণি । তার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আস্তে আস্তে দোরটি খুলব, তুমি আস্তে আস্তে, সে ঘুমিয়ে থাকতে থাকৃতে তার মুখটি কাপড় দিয়া চাপিয়া বাধিয়া ফেলিবে। তার পর চেচায় কার বাপের সাধ্য ! '...' দুর্লভ। তা, অমন জোর করে নিয়ে গেলে কয় দিন থাকিবে ? ফুল। একবার নিয়ে যেতে পারলেই হলো। যার তিন কুলে কেউ নেই, যে অন্নের কাঙ্গাল, সে খেতে পাবে, কাপড় পাবে, গয়না পাবে, টাকা পাবে, সোহাগ পাবে—সে আবার থাকবে না? সে ভার আমার—আমি যেন গয়ন টাকার ভাগ পাই। 吵 এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত সমাপ্ত হইলে, দুর্লভ স্বস্থানে গেল—ফুলমণি প্রফুল্লের কাছে গেল। প্রফুল্ল এ সৰ্ব্বনাশের কথা কিছুই জানিতে পারে নাই। সে মার কথা ভাবিতে ভাবিতে শয়ন করিল। মার জন্য যেমন র্কাদে, তেমনি কাদিল ; কাদিয়া যেমন রোজ ঘুমায়, তেমনি ঘুমাইল। দুই প্রহরে দুর্লভ আসিয়া দ্বারে টোক মারিল। ফুলমণি দ্বার খুলিল। দুর্লভ প্রফুল্পের মুখ বাধিয়া ধরাধরি করিয়া পান্ধীতে তুলিল। বাহকের নিঃশব্দে তাহাকে পরাণবাবু জমিদারের বিহার মন্দিরে লইয়া চলিল। বলা বাহুল্য, ফুলমণি সঙ্গে সঙ্গে চলিল। ইহার অৰ্দ্ধ দণ্ড পরে ব্রজেশ্বর সেই শূন্ত গৃহে প্রফুল্লর সন্ধানে আসিয়া উপস্থিত হইল। ব্রজেশ্বর সকলকে লুকাইয়া রাত্রে পলাইয়া আসিয়াছে। হায়! কোথাও কেহ নাই । প্রফুল্লকে লইয়া বাহকের নিঃশব্দে চলিল বলিয়াছি ; কেহ মনে না করেন---এটা ভ্রম-প্রমাদ ! বাহকের প্রকৃতি শব্দ করা । কিন্তু এবার শব্দ করার পক্ষে তাহদের প্রতি নিষেধ ছিল। শব্দ করিলে গোলযোগ হইবে ; তা ছাড়া আর একটা কথা ছিল। ব্ৰহ্মঠাকুরাণীর মুখে শুনা গিয়াছে, বড় ডাকাতের ভয়। বাস্তবিক এরূপ ভয়ানক দস্থ্যভীতি । কখনও কোন দেশে হইয়াছিল কি না সন্দেহ। তখন দেশ অরাজক। মুসলমানের রাজ্য । গিয়াছে ; ইংরেজের রাজ্য ভাল করিয়া পত্তন হয় নাই—হইতেছে মাত্র। তাতে আবার বছর কত হইল, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দেশ ছারখার করিয়া গিয়াছে। তার পর আবার দেবী সিংহের ইজারা। পৃথিবীর ওপারে ওয়েষ্ট, মিনিষ্টর হলে দাড়াইয়া এদমন্দ, বক, সেই দেবী সিংহকে অমর করিয়া গিয়াছেন। পৰ্ব্বতোদগীর্ণ অগ্নিশিখাবৎ জালাময় বাক্যস্রোতে বর্ক, দেবী সিংহের দুর্বিষহ অত্যাচার অনন্ত কালসমীপে পাঠাইয়াছেন। তাহার নিজমুখে সে দৈববাণীতুল্য বাক্যপরম্পরা শুনিয়া শোকে অনেক স্ত্রীলোক মূৰ্ছিত হইয়া পড়িয়াছিল—আজিও শত বৎসর পরে সেই বক্তৃতা পড়িতে গেলে শরীর লোমাঞ্চিত এবং হৃদয় উন্মত্ত হয়। সেই ভয়ানক অত্যাচার বরেন্দ্ৰ-ভূমি ডুবাইয়া দিয়াছিল। অনেকেই কেবল খাইতে পায় না নয়, গৃহে পৰ্য্যন্ত