পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম খণ্ড–অষ্টম পরিচ্ছেদ så বাস করিতে পায় না। যাহাঁদের খাইবার নাই, তাহার। পরের কাড়িয় খায়। কাজেই এখন গ্রামে গ্রামে দলে দলে চোর ডাকাত। কাহার সাধ্য শাসন করে ? গুড্‌ল্যাড, সাহেব রঙ্গপুরের প্রথম কালেক্টর। ফৌজদারী তাহারই জিন্ম। তিনি দলে দলে সিপাহী ডাকাত ধরিতে পাঠাইতে লাগিলেন। সিপাহীরা কিছুই করিতে পারিল না। অতএব ভুলভের ভয়, তিনি ডাকাতি করিয়া প্রফুল্লকে লইয়া যাইতেছেন, আবার তার উপর ডাকাতে না ডাকাতি করে। পান্ধী দেখিয়া ডাকাতের আসা সম্ভব। সেই ভয়ে বেহারারা নিঃশব্দ । গোলমাল হইবে বলিয়া সঙ্গে আর অপর লোক জনও নাই, কেবল দুর্লভ নিজে আর ফুলমণি । এইরূপে তাহারা ভয়ে ভয়ে চারি ক্রোশ ছাড়াইল । তার পর ভারি জঙ্গল আরম্ভ হইল। বেহারারা সভয়ে দেখিল, দুই জন মানুষ সম্মুখে আসিতেছে। রাত্রিকাল—কেবল নক্ষত্রালোকে পথ দেখা যাইতেছে । সুতরাং তাহাদের অবয়ব অস্পষ্ট দেখা যাইতেছিল। বেহারারা দেখিল, যেন কালান্তক যমের মত দুই মূৰ্ত্তি আসিতেছে। এক জন বেহার অপরদিগকে বলিল, “মানুষ দুটোকে সন্দেহ হয় ।” অপর আর এক জন বলিল, “রাত্রে যখন বেড়াচ্চে, তখন কি আর ভাল মানুষ ?” তৃতীয় বাহক বলিল, “মানুষ দুটো ভারি জোয়ান ।” ৪র্থ। হাতে লাঠি দেখছি না ? ১ম । চক্ৰবৰ্ত্তী মশাই কি বলেন? আর তো এগোনো যায় না—ডাকাতের হাতে প্রাণটা যাবে। - চক্রবর্তী মহাশয় বলিলেন, “তাই ত, বড় বিপদ দেখি যে ! যা ভেবেছিলেম, তাই হলো ” - এমন সময়ে, যে দুই ব্যক্তি আসিতেছিল, তাহারা পথে লোক দেখিয়া হাকিল, “কোন হায় রে ?” - বেহারারা অমনি পাস্ক মাটিতে ফেলিয়া দিয়া “বাবা গো" শবদ করিয়া একেবারে জঙ্গলের ভিতর পলাইল । দেখিয়া দুর্লভ চক্রবর্তী মহাশয়ও সেই পথাবলম্বী হইলেন। তখন ফুলমণি “আমায় ফেলে কোথা যাও ?” বলিয়া তার পাছু পাছু ছুটিল। যে দুই জন আসিতেছিল—যাহারা এই দশ জন মনুষের ভয়ের কারণ—তাহারা পথিক মাত্র। দুই জন হিন্দুস্থানী দিনাজপুরের রাজসরকারে চাকরীর চেষ্টায় যাইতেছে। রাত্রিপ্রভাত নিকট দেখিয়া সকালে সকালে পথ চলিতে আরম্ভ করিয়াছে। বেহারারা পলাইল