পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* দেবী চৌধুরাণী যক্ষ হইয়া টাকার কাছে ঘুরিয়া বেড়াইব—আমার গতি হইবে না। বৈষ্ণবীকে সেই টাকা দিব মনে করিয়াছিলাম, কিন্তু সে ত পলাইয়াছে। আর কোন মমুন্যের সাক্ষাৎ পাইব । তাই তোমাকেই সেই টাকাগুলি দিয়া যাইতেছি। আমার বিছানার নীচে একখানা চৌকা তক্ত পাতা আছে। সেই তক্তাখানি তুলিবে। একটা সুরঙ্গ দেখিতে পাইবে। বরাবর সিড়ি আছে। সেই সিড়ি দিয়া নামিবে-ভয় নাই—আলো লইয়া যাইবে । নীচে মাটির ভিতর এমনি একটা ঘর দেখিবে। সে ঘরের বায়ুকোণে খুজিও–টাকা পাইবে।” প্রফুল্ল বুড়ার শুশ্রুষায় নিযুক্ত রহিল। বুড়া বলিল, “এই বাড়ীতে গোহাল আছে— গোহালে গরু আছে। গোহাল হইতে যদি দুধ দুইয়া আনিতে পার, তবে একটু আনিয়া “আমাকে দাও, একটু আপনি খাও।” প্রফুল্ল তাহাই করিল—দুধ আনিবার সময় দেখিয়া আসিল—কবর কাটা—সেখানে কোদালি শাবল পড়িয়া আছে। অপরাহুে বুড়ার প্রাণবিয়োগ হইল। প্রফুল্ল তাহাকে তুলিল—বুড়া শীর্ণকায় ; সুতরাং লঘু ; প্রফুল্লের বল যথেষ্ট! প্রফুল্ল তাহাকে লইয়া গিয়া, কবরে শুয়াইয়া মাটি চাপা দিল। পরে নিকটস্থ কূপে স্নান করিয়া ভিজা কাপড় আধখানা পরিয়া রৌদ্রে । শুকাইল। তার পরে কোদালি শাবল লইয়া বুড়ার টাকার সন্ধানে চলিল। বুড়া তাহাকে টাকা দিয়া গিয়াছে—সুতরাং লইতে কোন বাধা আছে, মনে করিল না। প্রফুল্ল দীন-দুঃখিনী । নবম পরিচ্ছেদ প্রফুল্ল বুড়াকে সমাধি মন্দিরে প্রোথিত করিবার পূর্বেই তাহার শয্যা তুলিয়া বনে । ফেলিয়া দিয়াছিল--দেখিয়াছিল যে, শয্যার নীচে যথার্থই একখানি চৌকা তক্ত, দীৰ্ঘে প্রন্থে তিন হাত হইবে, মেঝেতে বসান আছে। এখন শাবল আনিয়া, তাহার চাড়ে তক্ত উঠাইল— অন্ধকার গহবর দেখা দিল । ক্রমে অন্ধকারে প্রফুল্ল দেখিল, নামিবার একটা সিঁড়ি আছে বটে | : জঙ্গলে কাঠের অভাব নাই। কিছু কাঠের চেলা উঠানে পড়িয়াছিল। প্রফুল্ল তাহা বহিয়া আনিয়; কতকগুলা গহ্বরমধ্যে নিক্ষেপ করিল। তাহার পর অনুসন্ধান করিতে লাগিল—চকমকি দিয়াশলাই আছে কি না। বুড়া মানুষ—অবশু তামাকু খাইত। সৰু ওয়ালটর রালের আবিক্রিয়ার পর, কোন বুড়া তামাকু ব্যতীত এ ছার, এ নশ্বর, এ নীরস,