পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8° দেবী চৌধুরাণী ব্রাহ্মণ হাসিল। বলিল, “মা ! মনে করিতেছ, আমি তোমার বাড়ী চিনিয়া আসিলে, তোমার মোহরগুলি চুরি করিয়া লইব ? তা তুমি কি মনে করিয়াছ, হাটে গেলেই আমাকে এড়াইতে পারিবে ? আমি তোমার সঙ্গ না ছাড়িলে তুমি ছাড়িবে কি প্রকারে ?” সৰ্ব্বনাশ ! প্রফুল্লের গা কঁাপিতে লাগিল । ব্রাহ্মণ বলিল, “তোমার সঙ্গে আমি প্রতারণা করিব না —আমাকে ব্রাহ্মণপণ্ডিত মনে কর, আর যাই মনে কর, আমি ডাকাইতের সর্দার। আমার নাম ভবানী পাঠক ।” প্রফুল্ল স্পন্দহীন। ভবানী পাঠকের নাম সে দুর্গাপুরেও শুনিয়াছিল। ভবানী পাঠক বিখ্যাত দস্থ্য। তাহার ভয়ে বরেন্দ্রভূমি কম্পমান। প্রফুল্লের বাক্যফুৰ্ত্তি হইল না। ভবানী বলিল, “বিশ্বাস না হয়, প্রত্যক্ষ দেখ ।” wo এই বলিয়া ভবানী ঘরের ভিতর হইতে একটা নাগরা বা দামামা বাহির করিয়া, তাহাতে গোটাকত ঘা দিল । মুহূৰ্ত্তমধ্যে জন পঞ্চাশ ষাট কালান্তক যমের মত জওয়ান লাঠি সড়কি লইয়া উপস্থিত হইল। তাহারা ভবানীকে জিজ্ঞাসা করিল, “কি আজ্ঞা হয় ?” + ভবানী বলিল, “এই বালিকাকে তোমরা চিনিয়া রাখ। ইহাকে আমি মা বলিয়াছি। ইহাকে তোমরা সকলে মা বলিবে এবং মার মত দেখিবে । তোমরা ইহার কোন অনিষ্ট করিবে ন, আর কাহাকেও করিতে দিবে না। এখন তোমরা বিদায় হও।” এই বলিবামাত্র সেই দসু্যদল মুহূৰ্ত্তমধ্যে অন্তৰ্হিত হইল । o প্রফুল্ল বড় বিস্মিত হইল। প্রফুল্ল স্থিরবুদ্ধি ; একেবারেই বুঝিল যে, ইহার শরণাগত হওয়া ভিন্ন আর উপায় নাই। বলিল, “চলুন, আপনাকে আমার বাড়ী দেখাইতেছি।” প্রফুল্ল দ্রব্য সামগ্রী যাহা রাখিয়াছিল, তাহ আবার লইল । সে আগে চলিল, ভবানী । পাঠক পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। তাহারা সেই ভাঙ্গা বাড়ীতে উপস্থিত হইল। বোঝা নামাইয়া, ভবানী ঠাকুরকে বসিতে, প্রফুল্ল-একখানা ছেঁড়া কুশাসন দিল । বৈরাগীর একখানি ছেড়া কুশাসন ছিল । - - দ্বাদশ পরিচ্ছেদ ভবানী পাঠক বলিল, “এই ভাঙ্গা বাড়ীতে তুমি মোহর পাইয়াছ ?” প্র। আজ্ঞা হা ।