পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


郎 দেৰী চৌধুরী

  • to পরমস্বামী। স্ত্রীলোকের পতিই দেবতা, শ্ৰীকৃষ্ণ সকলের দেবতা। ছটে দেবতা কেন, खां ? দুই ঈশ্বর ? এ ক্ষুদ্র প্রাণের ক্ষুদ্র ভক্তিটুকুকে দুই ভাগ করিলে কতটুকু থাকে ?”

প্র। দূর মেয়েমানুষের ভক্তির কি শেষ আছে ? নিশি। মেয়েমানুষের ভালবাসার শেষ নাই। ভক্তি এক, ভালবাসা আর । প্র । আমি তা আজও জানিতে পারি নাই। আমার দুই নুতন। প্রফুল্লের চক্ষু দিয়া ঝর ঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল। নিশি বলিল, “বুঝিয়াছি বোন—তুমি অনেক দুঃখ পাইয়াছ।” তখন নিশি প্রফুল্লের গলা জড়াইয়া ধরিয়া তার চক্ষের জল মুছাইল। বলিল, “এত জানিতাম না।” নিশি তখন বুঝিল, ঈশ্বর-ভক্তির প্রথম সোপান পতি-ভক্তি। চতুর্দশ পরিচ্ছেদ যে রাত্রে দুর্লভ চক্রবর্তী প্রফুল্লকে তাহার মাতার বাড়ী হইতে ধরিয়া লইয়া যায়, দৈবগতিকে ব্রজেশ্বর সেই রাত্রেই প্রফুল্লের বাসস্থানে তুর্গাপুরে গিয়া উপস্থিত হইয়াছিলেন। ব্ৰজেশ্বরের একটি ঘোড়া ছিল, ঘোড়ায় চড়িতে ব্ৰজেশ্বর খুব মজবুত। যখন বাড়ীর সকলে ঘুমাইল, ব্রজেশ্বর গোপনে সেই অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া অন্ধকারে তুর্গাপুরে প্রস্থান করিলেন। যখন তিনি প্রফুল্লর কুটারে উপস্থিত হইলেন, তখন সে ভবন জনশূন্ত, অন্ধকারময়। প্রফুল্লকে দসু্যতে লইয়া গিয়াছে। সেই রাত্রে ব্রজেশ্বর পাঞ্ছাপড়শী কাহাকেও পাইলেন না যে, জিজ্ঞাসা করেন । : ব্ৰজেশ্বর প্রফুল্লকে না দেখিতে পাইয়া মনে করিল যে, প্রফুল্ল একা থাকিতে না পরিষ্ঠ । কোন কুটুম্ববাড়ী গিয়াছে। ব্রজেশ্বর অপেক্ষা করিতে পারিল না। বাপের ভয়, রাত্রিমধ্যেই ফিরিয়া আসিল । তার পর কিছু দিন গেল। হরবল্লভের সংসার যেমন চলিতেছিল, তেমনি চলিতে লাগিল। সকলে খায় দায় বেড়ায়—সংসারের কাজ করে। ব্রজেশ্বরের দিন কেবল ঠিক সে রকম যায় না। হঠাৎ কেহ কিছু বুঝিল না—জানিল না। প্রথমে মা জানিল । গৃহিণী দেখিল, ছেলের পাতে তুধের বাটিতে দুধ পড়িয়া থাকে, মাছের মুড়ার কেবল কণ্ঠার মাছটাই ভুক্ত হয়, “রান্না ভাল হয় নাই” বলিয়া, ব্রজ ব্যঞ্জন ঠেলিয়া রাখে। মা মনে করিলেন, “ছেলের মন্দাগ্নি হইয়াছে।” প্রথমে জারক লেবু প্রভৃতি টোটুকার ব্যবস্থা করিলেন, তার পর কবিরাজ ডাকিবার কথা হইল। ব্রজ হাসিয়া উড়াইয়া দিল । মাকে ব্ৰজ হাসিয়া