পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* • দেবী চৌধুরাণী -- সেই আলো পড়িলে, ঘর একবার হাসিয়া আবার তখনই আঁধার হয়, প্রফুল্পের নামে ব্রজেশ্বরের মুখ তেমনই হইল। ব্রজ উত্তর করিল, “বান্দী যে ” ব্ৰহ্ম। বাঙ্গী না। সবাই জানে, সে মিছে কথা। তোমার বাপের কেবল সমাজের ভয় । ছেলের চেয়ে কিছু সমাজ বড় নয়। কথাটা কি আবার পাড়ব ? o ব্রজ। না, আমার জন্য সমাজে আমার বাপের অপমান হবে—তাও কি হয় ? সে দিন অর বেশী কথা হইল না। ব্ৰহ্মঠাকুরাণী৪ সবটুকু বুঝিতে পারিলেন না। কথাটা বড় সোজfনয়। প্রফুল্লর রূপ অতুলনীয়,—একে ত রূপেই সে ব্রজেশ্বরের হৃদয় অধিকার করিয়া" বসিয়াছিল, আবার সেই এক দিনেই ব্ৰজেশ্বর দেখিয়াছিলেন, প্রফুল্লর বাহির অপেক্ষা ভিতর আরও সুন্দর, আরও মধুর। যদি প্রফুল্ল—বিবাহিতা স্ত্রী—স্বাধিকারপ্রাপ্ত হইয়া নয়নতারার মত কাছে থাকিত, তবে এই উন্মাদকর মোহ সুস্নিগ্ধ স্নেহে পরিণত হইত। রূপের মোহ কাটিয়া যাইত, গুণের মোহ থাকিয়া যাইত। কিন্তু তা হইল না। প্রফুল্ল-বিদ্যুৎ একবার চমকাইয়া, চিরকালের জন্য অন্ধকারে মিশিল, সেই জন্য সেই মোহ সহস্র গুণে বল পাইল। কিন্তু এ ত গেল সোজা কথা। কঠিন এই যে, ইহার উপর দারুণ করুণা। সেই সোনার প্রতিমাকে তাহার অধিকারে বঞ্চিত করিয়া, অপমান করিয়া, মিথ্যা অপবাদ দিয়া, চিরকাল জন্য বহিষ্কৃত করিয়া দিতে হইয়াছে। সে এখন অল্পের কাঙ্গাল। বুঝি না খাইয়া মরিয়া যাইবে । যখন সেই প্রগাঢ় অনুরাগের উপর.এই গভীর করুণা—তখন মাত্রা পূর্ণ। ব্ৰজেশ্বরের হৃদয় প্রফুল্লময়—আর কিছুরই স্থান নাই। বুড়ী এত কথাও বুঝিল না। কিছু দিন পরে ফুলমণি নাপিতামীর প্রচারিত প্রফুল্লর তিরোধান-বৃত্তান্ত হরবল্লভের গৃহে পৌঁছিল। গল্প মুখে মুখে বদল হইতে হইতে চলে। সংবাদটা এখানে এইরূপ আকারে পৌছিল যে, প্রফুল্ল বাত-শ্লেষ্ম-বিকারে মরিয়াছে—মৃত্যুর পূৰ্ব্বে তার মরা মাকে দেখিতে পাইয়াছিল। ব্রজেশ্বরও শুনিল । হরবল্লভ শৌচ স্নান করিলেন, কিন্তু শ্ৰাদ্ধাদি নিষেধ করিলেন। বলিলেন, “বাদীর শ্ৰাদ্ধ বামনে করিবে ?” নয়নতারাও স্নান করিল—মাথা মুছিয়া বলিল, “একটা পাপ গেল— আর একটার জন্য নাওয়াটা নাইতে পারলেই শরীর জুড়ায়।” কিছু দিন গেল। ক্রমে ক্রমে শুকাইয়া শুকাইয়া, ব্রজেশ্বর বিছানা লইল । রোগ এমন কিছু নয়, একটু একটু জর হয় মাত্র, কিন্তু ব্ৰজ নিজীব, শয্যাগত। বৈদ্য দেখিল । ঔষধপত্রে কিছু হইল না—রোগ বৃদ্ধি পাইল । শেষ ব্রজেশ্বর বঁাচে না বঁাচে । আসল কথা আর বড় লুকান রহিল না। প্রথমে বুড়ী বুঝিয়াছিল, তার পর গিল্পী