পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


|ノs লইয়াছেন। তাহাতে লেখা আছে যে, ঐ সময়ে হরকান্ত (অথবা হরনাথ ) নামক এক জন বড় রাজস্বকৰ্ম্মচারীকে নিয়মভঙ্গ অপরাধে প্রথমে জেলে আটক করিয়া রাখা, এবং পরে উপরের কৰ্ত্তাদের হুকুমে ঐ জেলা হইতে বাহির করিয়া দেওয়া হয়। ইহাই হইল দেবী চৌধুরাণী'র ঐতিহাসিক তথ্য, অর্থাৎ তথ্যের একান্ত অভাব। কিন্তু এই জাতীয় কচকচির উপর কোন মহাকাব্যের মূল্য একেবারেই নির্ভর করে না। আনন্দমঠ সীতারাম দেবী চৌধুরাণীতে বঙ্কিম কাব্য-রচনা করিতে পসিঘাছিলেন— রাজসিংহ এ তিনটি অপেক্ষা অনেক অধিকমাত্রায় ঐতিহাসিক হইলেও তাহাকে কাব্য বলা ভুল হইবে, যদি “কাব্য’ বলিতে জীবনের অন্তস্তলের পর্য্যালোচন, “a criticism of life" (ম্যাথু আর্নলডের ব্যাখ্যা ) বুঝি। এই তিনখানি মহাগ্রন্থে ইতিহাস লেখা, এমন ক, ঐতিহাসিক দৃশ্যপট আঁকা পর্যন্ত বঙ্কিমের উদ্দেশ্য ছিল না ; মানবের হৃদয়কে দিব্য জ্যোভিতে আলোকিত করা, তাতকৈ উৰ্দ্ধতম স্তরে তুলিয়া দেওয়া, এ ক্ষেত্রে ইহাই ছিল তাহার প্রতিভার কাজ। এই দেবী চৌধুরাণী গ্রন্থের সর্বপ্রথম ছত্রেই তিনি অধ্যাপক সালীর বাণী উদ্ধৃত rtfoli (2.5ia of oligo –“The substance of religion is Culture ; the fruit of it, the Higher Life.” অর্থাৎ স্বগের ও মর্ত্যের মধ্যে সম্বন্ধ বজায় রাখাই মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সিদ্ধি, আর প্রকৃত আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুশীলন, সংযম ও আত্মত্যাগ—এই তিনটি বহু দিন ধরিয়া সাধনা 'করিলে তবে ঐ সিদ্ধিতে উপনীত হওয়া যায়। প্রফুল্লের জীবন তাহার চরম দৃষ্টান্ত, শান্তি এবং শ্রীও এই সাধনার ভিতর দিয়া গিয়াছিল, কিন্তু ফলে পার্থক্য আছে । এই পার্থক্যই বঙ্কিমের শিল্প-কৌশলের প্রমাণ । - শান্তি, প্রফুল্ল, শ্ৰী—এ তিন জন নায়িকাকে দূর হইতে দেখিলে একই ছাচে ঢাল বলিয়া ভ্রম হওয়া সহজ । তিন জনই অনুপমা সুন্দরী, আবার তাহাদের “বাহির অপেক্ষা ভিতর আরও সুন্দর, আরও মধুর" [ 'দেবী চৌধুরাণী, ১-১৪ ] : “হৃদযের আকাঙ্ক্ষার ভাগিনী, কঠিন কার্য্যের সহায়, সঙ্কটে মন্ত্রী, বিপদে সাহসদায়িনী, জয়ে আনন্দময়ী” [ ‘সীতারাম, ১-১০ ]; “ আমাকে বীরত্ৰত ] শিখাইলে ত” [ 'আনন্দমঠ, ৩-৩ ] । তিন জনই অতি দরিদ্রের কন্যা, . পিতৃহীন অসহায়, অল্পবয়সে বিবাহিত, কিন্তু তিন জনেই স্বামিসঙ্গ-বঞ্চিত । তিন জনকেই জীবনে প্রায় একই রকম অসাধারণ ঘটনার মধ্য দিয়া চলিতে হইল ;–সেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সধবা হইয়া বিধবার মত ব্রহ্মচারিণী, নিজগৃহ পর্যন্ত নাই, দেশপর্য্যটন, শারীরিক বল ও ব্যায়াম অভ্যাস, গীতাপাঠ, নিষ্কামধৰ্ম্ম শিক্ষা–এই সবগুলি দিয়া যৌবনে তাহাদের চরিত্র 3.