পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্বশুর রুক্ষভাবে বলিলেন, “তোমার বাপ বাচিলে আমার মেয়ের কি ? অাম টাকা থাকিলে দুঃখ ঘুচিবে—শ্বশুর বঁচিলে দুঃখ ঘুচিবে না।” ് কড়া কথায় ব্রজেশ্বরের বড় রাগ হইল। ব্রজেশ্বর বলিলেন, “তবে আপনার মেয়ে টাকা ... লইয়া থাকুক। বুঝিয়াছি, জামাইয়ে আপনার কোন প্রয়োজন নাই। আমি জন্মের মত বিদায় হইলাম।” - । তখন সাগরের পিতা দুই চক্ষু রক্তবর্ণ করিয়া ব্ৰজেশ্বরকে বিস্তর তিরস্কার করিলেন। ব্ৰজেশ্বর কড়া কড়া উত্তর দিল। কাজেই ব্রজেশ্বর তল্পিতল্পা বাধিতে লাগিল । শুনিয়া, সাগরের মাথায় বজাঘাত হইল । সাগরের মা জামাইকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। জামাইকে অনেক বুঝাইলেন। জামাইয়ের রাগ পড়িল না। তার পর সাগরের পালা। - # বধু শ্বশুরবাড়ী আসিলে দিবসে স্বামীর সাক্ষাৎ পাওয়া সেকালে যতটা দুরূহ ছিল, পিত্রালয়ে ততটা নয়। সাগরের সঙ্গে নিভৃতে ব্ৰজেশ্বরের সাক্ষাৎ হইল। সাগর ব্রজেশ্বরের পায় পড়িল, বলিল, “আর এক দিন থাক—আমি ত কোন অপরাধ করি নাই ?” ব্ৰজেশ্বরের তখন বড় রাগ ছিল—রাগে পা টানিয়া লইলেন। রাগের সময় শারীরিক ক্রিয়া সকল বড় জোরে জোরে হয়, আর হাতপায়ের গতিও ঠিক অভিমতরূপ হয় না। একটা করিতে বিকৃতি জন্য আর একটা হইয়া পড়ে। সেই কারণে, আর কতকটা সাগরের ব্যস্ততার কারণ, পা সরাইয়া লইতে প্রমাদ ঘটিল। পা একটু জোরে সাগরের গায়ে লাগিল। সাগর মনে করিল, স্বামী রাগ করিয়া আমাকে লাথি মারিলেন । সাগর স্বামীর পা ছাড়িয়া দিয়া কুপিত ফণিনীর ন্যায় দাড়াইয়া উঠিল। বলিল, “কি ? আমায় লাথি মারিলে?” বাস্তবিক ব্রজেশ্বরের লাথি মারিবার ইচ্ছা ছিল না,—তাই বলিলেই মিটিয়া যাইত। কিন্তু একে রাগের সময়, আবার সাগর চোখ মুখ ঘুরাইয়া দাড়াইল,—ব্রজেশ্বরের রাগ বাড়িয়া গেল। বলিলেন, “যদি মারিয়াই থাকি ? তুমি না হয় বড়মানুষের মেয়ে, কিন্তু পা আমার— তোমার বড়মানুষ বাপও এ পা এক দিন পূজা করিয়াছিলেন।” সাগর রাগে জ্ঞান হারাইল। বলিল, “ঝকমারি করিয়াছিলেন। আমি তার প্রায়শ্চিত্ত করিব।” ত্র। পালটে লাথি মারবে না কি ?