পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विडौग्न थ७-छूऊँौग्न श्रृंग्निाव्झन es —কানাড়, সাহান, বাগীশ্বরী—কত জঁাকাল রাগিণী বাজিল—নাদ, কুসুমের মালার মত নদীকল্লোল-স্রোতে ভাসিয়া গেল। তার পর দুই একটা পরদ উঠাইয়া নামাইয়া লইয়া, সহসা নূতন উৎসাহে উন্মুখী হইয়া সে বিদ্যাবতী ঝন ঝন্‌ করিয়া বীণের তারে বড় বড় ঘা দিল । কানের পিপুলপাত হুলিয়া উঠিল—মাথায় সাপের মত চুলের গোছা সব নড়িয়া উঠিল—বীণে নটরাগিণী বাজিতে লাগিল। তখন যাহারা পাল মুড়ি দিয়া এক প্রান্তে নিঃশব্দে নিদ্ৰিতবৎ শুইয়াছিল, তাহার মধ্যে একজন উঠিয়া আসিয়া নিঃশব্দে সুন্দরীর নিকট দাড়াইল । । এ ব্যক্তি পুরুষ। সে দীর্ঘকায় ও বলিষ্ঠগঠন ; ভারি রকমের এক যোড়া চৌগোপ্পা আছে । গলায় যজ্ঞোপবীত । সে নিকটে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি হইয়াছে ?” সেই স্ত্রীলোক বলিল, “দেখিতে পাইভেছ না ?” পুরুষ বলিল, “কিছু না। আসিতেছে কি ?” গালিচার উপর একটা ছোট দূরবীণ পড়িয়াছিল। দূরবীণ তখন ভারতবর্ষে নূতন আমদানী ইষ্টতেছিল। দূরবীণ লইয়া সুন্দর ঐ ব্যক্তির হাতে দিল—কিছু বলিল না। সে দূরবীণ চক্ষে দিয়া নদীর সকল দিক্ নিরীক্ষণ করিল। শেষ এক স্থানে আর একখানি বজরা দেখিতে পাইয়া বলিল, “দেখিয়াছি—টেকের মাথায়—ঐ কি ?” - উ। এ নদীতে আজকাল আর কোন বজরা আসিবার কথা নাই। পুরুষ পুনৰ্ব্বার দূরবীণ দিয়া নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। যুবতী বীণা বাজাইতে বাজাইতে বলিল, “রঙ্গরাজ !” রঙ্গরাঞ্জ উত্তর করিল, “আজ্ঞা ?” “দেখ কি ?” “কয় জন লোক আছে, তাই দেখি ” “কয় জন ?” “ঠিক ঠাওর পাই না। বেশী নয়। খুলিব!" “খোল—ছিপ। আঁধারে আঁধারে নিঃশব্দে উজাইয়া যাও।” তখন রঙ্গরাজ ডাকিয়া বলিল, “ছিপ খোল ।”