পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*

  • * - দেবী চৌধুরাণী # "לשW হাতে দোনলা বন্দুক আছে—তৈয়ার, যে প্রথম কামরায় প্রবেশ করিবে, নিশ্চয় তাহার প্রাণ লইব ।”

রঙ্গরাজ। এক জন প্রবেশ করিব ন!—কয় জনকে মারিবেন ? আপনিও ব্রাহ্মণ— আমিও ব্রাহ্মণ । এক তরফ ব্রহ্মহত্যা হইবে । মিছামিছি ব্ৰহ্মতভায় কাজ কি ? ব্ৰজেশ্বর বলিল, “সে পাপট না হয় আমিই স্বীকার করিব।” এই কথা ফুরাইতে না ফুরাইতে মড়, মড়, শব্দ হইল। বজরার পাশের দিকের একখানা কপাট ভাঙ্গিয়া, একজন ডাকাইত কামরার ভিতর প্রবেশ করিল দেখিয়া, ব্রজেশ্বর হাতের বন্দুক ফিরাইয়া তাহার মাথায় মারিল। দস্তু মূৰ্ছিত হইয়া পড়িল । এই সময়ে রঙ্গরাজ বাহিরের কপাটে জোরে দুই বার পদাঘাত করিল। কবাট ভাঙ্গিয়া গেল। রঙ্গরাজ কামরার ভিতর প্রবেশ করিল। ব্ৰজেশ্বর আবার বন্দুক ফিরাইয়া ধরিয়া, রঙ্গরাজকে লক্ষ্য করিতেছিলেন, এমন সময়ে রঙ্গরাজ তাহার হাত হইতে বন্দুক কাড়িয়া লইল। দুই জনেই তুল্য বলশালী, তবে রঙ্গরাজ অধিকতর ক্ষিপ্ৰহস্ত । ব্রজেশ্বর ভাল করিয়া ধরিতে না ধরিতে, রঙ্গরাজ বন্দুক কাড়িয়া লইল । ব্রজেশ্বর তখন দৃঢ়তর মুষ্টিবদ্ধ করিয়া সমুদায় বলের সহিত রঙ্গরাজের মাথায় এক ঘুষি তুলিল । রঙ্গরাজ ঘুষিটা হাতে ধরিয়া ফেলিল। বজরার এক দিকে অনেক অস্ত্র ঝুলান ছিল। এই সময়ে ব্রজেশ্বর ক্ষিপ্রহস্তে তাহার মধ্য হইতে একখানা তীক্ষুধার তরবারি লইয়া, হাসিয়া বলিল, “দেখ ঠাকুর, ব্ৰহ্মহত্যায় আমার ভয় নাই।” এই বলিয়া রঙ্গরাজকে কাটিতে ব্ৰজেশ্বর তরবারি উঠাইল । সেই সময়ে আর চারি পাঁচ জন দস্থ্য মুক্তদ্বারে কামরার ভিতর প্রবেশ করিয়া, তাহার উপর পড়িল । উখিত তরবারি হাত হইতে কাড়িয়া লইল । দুই জনে দুই হাত চাপিয়া ধরিল—একজন দড়ি লইয়া ব্রজেশ্বরকে বলিল, “র্বাধিতে হইবে কি ?” তখন ব্রজেশ্বর বলিল, “বাধিও না। আমি পরাজয় স্বীকার করিলাম। : কি চাও বল—আমি দিতেছি।” রঙ্গরাজ বলিল, “আপনার যাহা কিছু আছে, সব লইয়া যাইব । কিছু ছাড়িয়া দিতে পারিতাম–কিন্তু যে কিল তুলিয়াছিলেন—আমার মাথায় লাগিলে মাথা ভাঙ্গিয়া যাইত—এক পয়সাও ছাড়িব না।” ব্ৰজেশ্বর বলিল, “যাহা বজরায় আছে—সব লইয়া যাও, এখন আর আপত্তি করিব না।” ব্ৰজেশ্বর এ কথা বলিবার পুৰ্ব্বেই দ্যুর জিনিষপত্র বজরা হইতে ছিপে তুলিতে আরম্ভ করিয়াছিল। এখন প্রায় পচিশ জন লোক বজরায় উঠিয়াছিল। জিনিষপত্র বজরায় বিশেষ কিছু ছিল না, কেবল পরিধেয় বস্ত্রাদি, পূজার সামগ্ৰী, এইরূপ মাত্র। মুহূৰ্ত্তমধ্যে তাহারা সেই