কিছু কথা কওয়া দরকার
‘‘অনুবাদ ছাড়া ‘বিশ্ব সাহিত্য' বলে কিছুর অস্থিত্ব থাকত না। সব সাহিত্যই থেকে যেত আঞ্চলিক সাহিত্য। অনুবাদকের মূল কৃতিত্ব তিনি পৃথিবীর এক প্রান্তের গল্প আরেক প্রান্তের মানুষের কাছে নিয়ে যান। অনুবাদকেরা পুরো পৃথিবীকে এক অখণ্ড বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগীয় ভুবন বানিয়ে তুলেছেন।
কলম্বিয়ার মাকোন্দো গ্রামের গল্প বাংলাদেশের জলেশ্বরীর লোকেদের কাছে নিয়ে এসেছেন অনুবাদক।
দুনিয়ার সব অনুবাদককে লাল সালাম।”- মশিউল আলম
আর এই জায়গা থাইকাই এনামূল হক পলাশরেও সালাম জানানো যায়। আল-মা'আরিরে বাংলায় তরজমার কোশিশের লাইগা। পলাশের কারণেই মা'আরি লগে আমারও পরিচয় ঘটে। সেই পরিচয়ের সূত্রেই আল-মা'আরিরে নিয়া একটু-আধটু গুগলে সার্চ দিতে গিয়া দেখি আগেও আল-মা'আরি বিচ্ছিন্নভাবে বাংলায় তরজমা হইছেন কিন্তু বই আকারে প্রকাশ হইছে কি-না তা নিশ্চিত কইতে পারলাম না। যদি হইয়াও থাকে তবে তা খুব একটা জানাশোনার মাঝে নাই। অনুবাদ হইল দুইটা ভাষার মইধ্যে সম্পর্কের বিষয়। একটা টেক্সট আর একটা টেক্সটে রিডিং হয়। ফলে টেক্সটা ঠিক মতো আপনাইতে পারলে অনুবাদে আসলে নতুন রিডিংই ক্রিয়েট হয়। মা’আরি লেখছেন আরবিতে, সেইখান থাইকা ইংরেজি আর ইংরেজি থাইকা বাংলা করছেন এনামূল হক পলাশ। সেই জায়গায় পলাশ কতটুকু আপনাইতে পারছেন সেইটা তার পাঠকরাই বিচার কিংবা বিবেচনা করবেন। পলাশ মা'আরিরে তরজমা কইরা তার পাঠকের কাছে হাজির করতেছেন; এইটাও একটা বড় বিষয়। আর কোন একজনের সাহিত্য এক অনুবাদে থাইমা থাকে না। এর পরে আরো অনেকে মা'আরির তরজমায় আগাইয়া আসবেন এবং আরো ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে মা'আরি বাংলা পাঠকের সামনে হাজির হবেন, সেই আশাও থাকল।
আল-মা'আরি। পুরা নাম আল আলা আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মা'আরি। ৯৭৩ সাল থাইকা ১০৫৭ সাল পর্যন্ত তার জীবনকাল। তার সময়ে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে খ্যাতি লাভ করছিলেন। মা’আরি বর্তমান সিরিয়ার আলেপ্পোর মা'আরাত আল-নুমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আরবের আল-তানুখি গোত্রের প্রসিদ্ধ পরিবার, বনু সোলায়মানের লোক। বনু সোলায়মানের কিছু লোক কবি হিসাবে খ্যাত ছিলেন। সেই প্রভাবে হয়তো মা'আরিও কবি হইয়া উঠেন। আল-