মা'আরি গুটি বসন্তের কারণে চার বছর বয়সে আন্ধা হইয়া যান। ১১/১২ বছর বয়সে তার কবি জীবনের শুরু হয়। তিনি মা'আরা ও আলেপ্পোয় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তার গুরু আছিলেন ইবনে খালাওয়াহ। গুরুর মৃত্যুর পর মূলতঃ তার কবি জীবন শুরু হয় যখন তিনি আসলেই ছিলেন শিশু।
মা’আরির ‘সাক্ট আয-জাণ্ড’ আর ‘লুজুমিয়াত' বই দুইখান খুব বিখ্যাত। এই দুইখান বই নিয়াই বেশি আলোচনা হয়। আর আলোচনা হয় তার ধর্ম বিশ্বাস নিয়া। বড় তিনখান ধর্মের জন্মস্থান আরবে জন্মানোর জন্যই হয়তো তার ধর্ম বিশ্বাস নিয়া এই আলোচনাটা বেশি হয়। কোনো জায়গায় মা'আরিরে নাস্তিক আবার কোনো জায়গায় সংশয়বাদি কইয়া উল্লেখ আছে। মা'আরি তিনখান আব্রাহামিক ধর্মরেই আক্রমণ করতেন বইলা উল্লেখ আছে। আর তার আক্রমণের উল্লেখে আছে যে, মা’আরি কইতেন, “উপাসনালয়ের সন্ন্যাসীরা কিংবা উপাসনাকারিরা তাদের লোকালয়ের বিশ্বাসকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে চলছে; যদি তারা অগ্নি উপাসক কিংবা সাবিয়ানদের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করত, তবে তারা অগ্নি উপাসক কিংবা সাবিয়ান হতে পারত।” এই কথারে আসলে ধর্মরে আক্রমণের মধ্যে আমি ফেলতে পারি না যদি না তিনি আরো বিশেষ কিছু কইয়া না থাকেন। এই বয়ানে আসলে ধর্মের চাইতেও ধর্মরে ইনহেরিট করা কিংবা ধর্মের সোল এজেন্সি নেওয়া লোকজনরে আক্রমণ করাই আমার এণ্টেনায় ধরা পরে। তার এই কথার সাথে হযরত আলী (রাঃ) কওয়া, “তোমার ধর্ম সম্পর্কে জান, তারে ইনহেরিট কইর না।” অনেক বেশি রিলেট করে।
কওয়া হয়, আল-মা'আরি নাকি জীবনের পবিত্রতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নিজের কবিতা সম্পর্কে তিনি কন, “আমি কল্পকাহিনি দিয়া আমার কবিতাগুলা সাজাইতে চাই নাই কিংবা আমার পাতাগুলা প্রেমের প্রতিমা, যুদ্ধের দৃশ্য, মদ খাওয়ার বিবরণ দিয়া পূরণ করতে চাই নাই। আমার উদ্দেশ্য সত্য কওয়া। তাই এর লাইগা অবশ্যই আমার পাঠকদের সহযোগিতা প্রার্থনা করি।
সেই সময়ের আরবরা তারে সহযোগিতা করছিল কি না তা জানা না গেলেও তারে কতল করে নাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মাথা তার ঘাড়ের উপ্রেই ছিল। বর্তমানে হইলে বোধহয় তা আর হইত না। তবে মা'আরিরে না পারলেও বর্তমান জিহাদীরা তার মারা যাওয়ার ১০০০ বছর পরে ২০১৩ সালে আল-মা'আরির প্রতিকৃতির শিরোচ্ছেদ করে।
আল-মা'আরি জীবিত প্রাণীর ক্ষতি না করতে অনুরোধ করছিলেন। নিজে ছিলেন নিরামিষাশী। যাপন করছেন সন্নাসি জীবন। নিজের ঐতিহ্য আর ধর্মীয় দৈববাণীর