বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ধর্ম্মজীবন (দ্বিতীয় খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

( . ) পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়া ও পূর্ণ অধীনতা আনিয়া দেয়। যেখানে অকপট গ্ৰীতি বিদ্যমান সেখানে একজন সৰ্ব্বাংশে অপরের অনুগত হইয়াও আপনাকে পরাধীন মনে করে না, সৰ্ব্বস্ব দিয়া ও কিছু দিলাম। ভাবে না। প্ৰেম এই প্রকারে পরাধীনতাকে স্বাধীনতাতে এবং স্বাধীনতাকে পরাধীনতাতে পরিণত করিয়া থাকে। ঈশ্বর আমাদিগকে স্বাধীন করিয়াছেন, অথচ আমাদিগের উপরে তঁহার ধৰ্ম্ম-নিয়মকে প্ৰতিষ্ঠিত রাখিয়াছেন, তাহার অভিপ্ৰায় এই যে আমরা ক্রীতদাসের ন্যায় ভয়-ভীত হইয়া তাহার ধৰ্ম্মনিয়মের অধীন হইব না, কিন্তু প্ৰেমে আত্ম-সমৰ্পণ করিয়াই তঁাহার অধীন হইব। এই জন্যই তিনি আমাদিগকে স্বাধীন-সাধ্য ধৰ্ম্মের অধিকারী করিয়াছেন। স্বাধীনতা ও প্রেমের ন্যায় ধৰ্ম্মের দেশে আর একটী পদার্থ আছে, তাহা আনন্দ। উহা আত্মার নিবৃতি বা তৃপ্তি-জনিত। সত্য না পাইলে মানবাত্মা তৃপ্ত হয় না। অন্নের সঙ্গে উদরের যে সম্বন্ধ, সত্যের সঙ্গে আত্মার সেই সম্বন্ধ। উদরকে যথাসময়ে অন্ন লাভ করিতে দেও, আর তোমাকে কিছু করিতে হইবে না ; অবশিষ্ট সকল কাজ উদর করিবে ; সে আর তোমার নিকট কিছু চাহিবে না ; সে সেই অন্ন-মুষ্টিকে লইয়া আপনার গুঢ়তম স্থানে রাখিবে, পাকোপযোগী রসের দ্বারা সংযুক্ত করিবে, তদ্বারা দেহ গঠন করিবে । সেইরূপ আত্মা সৃদি সত্য বস্তুকে পায় তাহা হইলে বলে-“ধন্যোস্মি কৃতকৃত্যোস্মি” আদি ধন্য হইলাম আমি কৃতকাৰ্য্য হইলাম। অর্ণব মধ্যে প্ৰবল ঝটিক্লাতে ছিন্ন দিছিন্ন হইয়া অর্ণবপোত যদি উপযুক্ত বন্দর পায়, তাহা হইলে তদারোহিগণ যেরূপ নিরাপদ ভাব অনুভব করে, প্ৰবল ঝঙ্কাবাতে ছিন্ন-পক্ষ বিহঙ্গম। যদি তরুকোটরস্থিত নিজ কুলায় প্ৰাপ্ত হয়, তাহা হইলে যেরূপ তাহাতে বুক রাখিয়া বিশ্রাম ও আরাম লাভ করে, সেইরূপ এই মানব-জীবনের রোগ, শোক, পাপ প্ৰলোভনের আঘাত ও আন্দোলনের মধ্যে মানবাত্মা যদি একবার সেই সত্য-জ্যোতি দর্শন করে, তাহা হইলে অভয়াপদ প্ৰাপ্ত হইয়া থাকে। এই যে সত্যাশ্রয়-লাভ-জনিত মানব-চিত্তের আশাপূর্ণ সন্তোষের অবস্থা তাহাকেই নিবৃতি বলা যায়। এ কথাতে এরূপ কেহ মনে করবেন না যে, ধৰ্ম্মের ভূমিতে আরোহণ করিলে আর মানব-জীবনে সংগ্ৰাম থাকে না। এতদেশের ধৰ্ম্মসাধকগণ এক প্রকার শান্তির প্রয়াসী যাহার অপর নাম সংগ্রাম-রাহিত্য । আত্মার সংগ্ৰাম