> アも ধৰ্ম্মজীবন । বিষয় পাঠ করিয়া বিশেষ উপকৃত হইয়াছিলাম। র্তাহার পিতার অনেকগুলি ক্রীতদাস ছিল। এই ক্রীতদাস-ব্যবসায়ের বিবরণ যাহারা জানেন, তাহারা ইহা জানেন যে গো, মেষ, মহিষ প্ৰভৃতি যেমন মানুষের সম্পত্তির মধ্যে গণ্য, তেমনি ক্রীতদাস গুলিও প্ৰভুদিগের সম্পতির মধ্যে গণ্য ছিল। উক্ত মহিলার পিতা অনেক সহস্র টাকা ব্যয় করিয়া ঐ দাসদিগকে ক্ৰয় করিয়াছিলেন, এবং তাহাদিগকে বিক্রয় করিয়া লাভবান হইবার আশা করিতেন। এমন সময়ে তাহার মৃত্যু হইল। তিনি একমাত্ৰ কন্যা ও সম্পত্তিস্বরূপ। ঐ সকল দাস দাসীকে রাখিয়া পরলোকে গমন করিলেন । কিন্তু তাহার মৃত্যুর পরেই কন্যার হৃদয় পরিবর্তিত হইল। তিনি ক্রীতদাসপ্ৰথাকে ধৰ্ম্ম ও নীতিবিরুদ্ধ বলিয়া অনুভব করিতে লাগিলেন । তখন তিনি কি করেন ? যে দাস দাসীগুলি আছে, সেই গুলিই তাহার একমাত্র সম্পত্তি । তাহাদিগকে যদি স্বাধীন করিয়া দেন, তাহা হইলে তাহাদিগকে ক্রয় করিতে যে হাজার হাজার টাকা ব্যয় হইয়াছিল। সে সমুদায় বৃথা যায়, এবং তিনি একেবারে দরিদ্র ও নিঃসম্বল হইয়া পড়েন, অথচ যাহাকে অধৰ্ম্ম বলিয়া অনুভব করিতেছেন সে কাৰ্য্যে প্ৰবৃত্ত হনই বা কিরূপে ? অবশেষে তিনি ঐ সকল দাস দাসীকে স্বাধীনতা দেওয়াই শ্রেয় বলিয়া অবধারণ করিলেন। তঁহার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব যিনি যেখানে ছিলেন, সকলে দারিদ্র্যের ভয় দেখাইতে লাগিলেন । কিন্তু তিনি কিছুতেই প্ৰতিনিবৃত্ত হইলেন না । তিনি বলিলেন,-
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৯২
অবয়ব