ধৰ্ম্মজীবন । করে নাই। বিজ্ঞান প্ৰমাণ করিতেছে, যে শক্তি হইতে জগৎ প্ৰসূত ও যাহার দ্বারা জগৎ বিধৃত, তাহ অক্ষয়, অর্থাৎ তাহার এক কণিকাও বৃদ্ধি হয় না, বা এক কণিকাও ধবংস হয় না। সুতরাং মানব এই সম্পদ ঐশ্বৰ্য্যের এক কণিকাও সৃষ্টি করে নাই। মানব কেবল বনের কাষ্ঠ সহরে আনিয়াছে, খনির ধাতু উপরে তুলিয়াছে, ভূমির মৃত্তিক ইষ্টকাকারে পরিণত করিয়াছে, এক স্থানের দ্রব্য আর একস্থানে লইয়াছে, এক আকারের পদার্থকে আর এক আকারে পরিবৰ্ত্তিত করিয়াছে, এই মাত্র । সংক্ষেপে বলিতে গেলে, জগতের ধন ধান্য মানুষকে দেওয়া হইয়াছে, মানুষ কেবল ভোগ করিয়াছে, এই মাত্র মানুষের অধিকার । সম্পদ ও ঐশ্বৰ্য্য সম্বন্ধে যে কথা সত্য জ্ঞান ও বিদ্যা সম্বন্ধেও কি সে কথা সত্য নয় ? সম্পদ ঐশ্বর্গ্যের বৃদ্ধির ন্যায় সভ্য জগতের জ্ঞান ও বিদ্যার বৃদ্ধি দেখিয়া ও অবাক হইতে হয়। আদিম বর্বর মানুষের জ্ঞানের অবস্থার সহিত বর্তমান সভ্য মানুষের জ্ঞানের অবস্থার তুলনা করিলে কি বিস্ময়াবিষ্ট হইতে হয় না ? আদিম মানব সামান্য শীতাতপ হইতেও আপনাকে রক্ষা করিতে পারিত না ; সভ্য মানব জ্ঞানবলে যে কেবল আত্মরক্ষাতে সমর্থ হইয়াছে তাহা নহে, পরন্তু প্ৰকৃতিরাজ্যের অতীব গুঢ়তত্ত্ব সকল জানিয়া প্ৰকৃতির শক্তি সকলের উপরে আপনার কর্তৃত্ব স্থাপন করিতে সমর্থ হইয়াছে। কিন্তু এই অত্যভুত জ্ঞানের বিকাশের কতটুকু মানবের স্বরচিত ? মানব জ্ঞানের এক কণিকাও সৃষ্টি করে নাই। জগৎ ও আত্মা এই
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৩৪
অবয়ব