o ধৰ্ম্মজীবন । হুইয়াছিল, অশ্রুপাত করিয়াছিল, প্ৰতিজ্ঞাপত্রে স্বাক্ষর করিয়াছিল, সে সমুদায় কি প্ৰবঞ্চনা ? তাহা কখনই নহে। সে তখন সরল ভাবেই অনুতাপ করিয়াছিল এবং অকপটেই আত্ম-সংশোধনের প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল । তবে আবার পতিত হইল কেন ? উত্তর-আসক্তি বশতঃ। যেই সেই পুরাতন প্ৰলোভনের বস্তু তাহার নিকটে আসিল, অমনি সুরাপানজনিত উত্তেজনার সুখটুকু মনে জাগিয়া উঠিল; সেই সুখ স্মৃতিপথে উদিত হইবামাত্র তাহ পুনৰ্ব্বার ভোগ করিবার লালসা প্রবল হইল ; এক দিকে যেমন লালসা প্ৰবল হইল, অপর দিকে ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা বশতঃ সে মনকে সংযত করিয়া রাখিতে পারিল না ; বলহীন ব্যক্তির ন্যায় লালসার হস্তে বন্দী হইয়া পুরাতন পাপে পতিত হইল। জগতের অধিকাংশ পাপের ইতিবৃত্ত এই ৷ এক্ষণে প্রশ্ন এই কেন মানুষ ক্ষুদ্র পদার্থে এরূপ আসক্ত হয় ? উপনিষৎকার ঋষিগণ বলিলেন, অজ্ঞতা-বশতঃ, অনিত্যকে নিত্য বলিয়া জানে বলিয়া । ভ্ৰান্ত জীব সর্বদাই এ জগতে অনিত্যকে নিত্য বলিয়া ভাবিতেছে ; রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শময় অনিত্য পদার্গে ভুলিয়া নিত্য পদার্থ যে ব্ৰহ্মসত্তা তাহকে বিস্মৃতি হইতেছে, সেই জন্যই মানুষের এই দুৰ্গতি । তাহারা বলেন, ভ্ৰান্ত মানুষকে জ্ঞানোপদেশ কর, একদিকে সংসারের অনিত্যতা ও অসারতা প্ৰতিপন্ন কর,অপরদিকে নিত্য বস্তুর জ্ঞানকে উজ্জ্বল কর, তাহা হইলে তাহদের অবিদ্যা ঘুচিয়া যাইবে এবং তাহারা তত্ত্বজ্ঞান লাভ করিয়া আর অনিত্য পদার্থে আসক্ত হইবে না।
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৬
অবয়ব