নাম্পে সুখমস্তি। যে বৈ ভূমা তৎ, সুখং । নাল্পে সুখমস্তি । উপনিষদ । অর্থ-“যিনি মহান তঁহাতেই সুখ, অল্পে সুখ নাই ।” ঋষিগণ আত্মার প্রকৃতি পৰ্য্যালোচনা করিয়া দেখিলেন যে, আত্মা সেই অনন্ত ও মহান পুরুষের শ্রবণ মনন নিদিধ্যাসিনেতেই সুখী হইয়া থাকে ; যাহা কিছু ক্ষুদ্র ও পরিমিত তাহাতে মানবাত্মার প্রকৃত তৃপ্তি নাই। ইহার কারণ এই,-অনন্তই আত্মার বাস ও বিহারের ভূমি। সত্য, ন্যায়, প্রেম ও পবিত্রতা প্রভৃতি আত্মার উচ্চ ভাবগুলির বিষয়ে চিন্তা করিলেই আমরা দেখিতে পাই যে, তাহদের প্রকৃতির মধ্যেই অনন্তত নিহিত রহিয়াছে। আমরা কল্পনা দ্বারা তাঁহাদের কোনও সীমা নির্দেশ করিতে পারি না। চিন্তাতে এরূপ একটী রেখা পাই না, যাহার ওদিকে আর সত্য নাই, বা যাহার অপর দিকে আর ন্যায়ের গতি নাই, বা প্রেমের প্রসার নাই। সুতরাং আত্মার প্রকৃতি পৰ্য্যালোচনা করিলেই ইহা অনুভব করা যায় যে আমরা দেহ ও ইন্দ্ৰিয়ের দিকে সীমাবদ্ধ, কিন্তু অধ্যাত্ম-দিকে অনন্তমুখীন। আমরা যেন এমন একটী প্রাসাদে বাস করিতেছি, যাহার সম্মুখে একটী পর্বতশ্রেণী দৃষ্টিপথকে রোধ করিতেছে, কিন্তু পশ্চাৎ দিকে অকুল সমুদ্র প্রসারিত; মানবপ্রকৃতির মধ্যে এই অনন্তের ভাব নিমগ্ন আছে বলিয়াই মানবাত্মা মহৎ ও উদার বিষয়ের চিন্তাতে সুখী হইয়া থাকে। এ বিষয়ে মানবাত্মার
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩১৫
অবয়ব