বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ব্ৰহ্মসাধকের সুখভোগ । ዓቅ তদ্ভিন্ন মন স্ববশে আসে না । কিন্তু সে প্রকার সাধন চিরদিনের জন্য নহে। বিশেষতঃ র্যাহার এ প্রকার কৃচ্ছসাধন করিয়াছেন; তঁহাদের অন্তরে একটী ভাব ছিল, যাহা বর্তমান সময়ে আমরা অবলম্বন করি নাই । তাহারা যেন ভাবিয়ছিলেন যে, এই শরীরটা পাপের দুর্গ, এবং আত্মা ঈশ্বরের দুর্গ। পাপ-রিপু শরীর-দুৰ্গকে আশ্রয় করিয়া ঈশ্বরের দুগকে অধিকার করিবার প্রয়াস পাইতেছে ; অতএব পাপের দুর্গকে ভগ্ন ও রুগ্ন কৱিতে পারিলে, পাপের বাসা ভাঙ্গিয়া দেওয়া হয় । আমরা শরীরকে মানবের ধৰ্ম্মজীবনের শত্রু মনে করি না। চক্ষু সৌন্দৰ্য্য দেখিলেই স্বভাবতঃ প্রীত হয়, কৰ্ণ সুস্বর শুনিলেই আনন্দ লাভ করে, এই গ্রীষ্মের দিনে সুস্নিগ্ধ প্ৰাতঃসমীরণ শরীরকে স্নিগ্ধ করে, বিমল চন্দ্ৰিক হৃদয়কে প্ৰফুল্ল করে, এই সমুদায় স্বাভাবিক কার্স্য কি মানবের শ্রেষ্ঠ জীবনের বিরোধী ? ইহা কি যুক্তিযুক্ত হইতে পারে? আমরা ত দুইটা সৃষ্টিকৰ্ত্তা স্বীকার করি না । ঈশ্বর আমাদের ইন্দ্ৰিয় সকলের সহিত বাহ্যজগতের এরূপ সম্বন্ধ স্থাপন করিয়া দিয়াছেন যে, কতকগুলি অবস্থা আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক, অবশ্যম্ভাবী ও অপরিহার্ঘ্য ; অংগচ সেগুলি আমাদের ধৰ্ম্মজীবনের বিরোধী, ইহা কি সম্ভব ? আমরা আহার না করিলে ও নিদ্ৰা না গেলে বাচি না, দেহ রক্ষার জন্য তাহা অপরিহার্স্য, অথচ কেহ যদি বলেন, আহার ও নিদ্রা আমাদের ধৰ্ম্মজীবনের বিরোধী তাহা কি যুক্তিযুক্ত ? তৎপরে উপনিষদের এই বচন মধ্যে আরও দেখা যাইতেছে, যে, ঋষি বলিতেছেন যে ব্ৰহ্মসাধক যে কেবল কাম্যবস্তু সকল