পাতা:নটীর পূজা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৪

নটীর পূজা

ধরে জিজ্ঞাসা করলেম, “কোথায় যাচ্ছিস ভাই”, সে বললে, “খুঁজতে।”

শ্রীমতী

 নদীর সব ঢেউকেই সমুদ্র আজ একডাকে ডেকেছে। পূর্ণ চাঁদ উঠল।—এ কী। তোমার হাতে যে আঙটি দেখি। কেমন লাগছে যে। স্বর্গের মন্দারকুঁড়ি তো ধুলোর দামে বিকিয়ে গেল না?

মালতী

 তবে খুলে বলি—তুমি সব কথা বুঝবে।

শ্রীমতী

 অনেক কেঁদে বোঝবার শক্তি হয়েছে।

মালতী

 তিনি ধনী, আমরা দরিদ্র। দূর থেকে চুপ করে তাঁকে দেখেছি। একদিন নিজে এসে বললেন, “মালতীকে আমার ভালো লাগে।” বাবা বললেন, “মালতীর সৌভাগ্য।” সব আয়োজন সারা হল যেদিন এলেন তিনি দ্বারে। বরের বেশে নয় ভিক্ষুর বেশে। কাষায়বস্ত্র, হাতে দণ্ড। বললেন, “যদি দেখা হয়তো মুক্তির পথে, এখানে নয়।”—দিদি, কিছু মনে কোরো না—এখনো চোখে জল আসছে, মন যে ছোটো।