পাতা:নবজাতক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
নবজাতক
 

প্রবীণ

বিশ্ব-জগৎ যখন করে কাজ
স্পর্ধা ক’রে পরে ছুটির সাজ।
আকাশে তার আলাের ঘােড়া চলে,
কৃতিত্বেরে লুকিয়ে রাখে পরিহাসের ছলে।
বনের তলে গাছে গাছে শ্যামল রূপের মেলা,
ফুলে ফলে নানান্ রঙে নিত্য নতুন খেলা।
বাহির হতে কে জানতে পায় শান্ত আকাশতলে
প্রাণ বাঁচাবার কঠিন কর্মে নিত্য লড়াই চলে।
চেষ্টা যখন নগ্ন হয়ে শাখায় পড়ে ধরা,
তখন খেলার রূপ চলে যায়, তখন আসে জরা।

বিলাসী নয় মেঘগুলাে তো জলের ভারে ভরা
চেহারা তার বিলাসিতার রঙের ভূষণ পরা।
বাইরে ওরা বুড়ােমিকে দেয় না তাে প্রশ্রয়,—
অন্তরে তাই চিরন্তনের বজ্রমন্দ্র রয়।
জল-ঝরানাে ছেলেখেলা যেমনি বন্ধ করে,
ফ্যাকাশে হয় চেহারা তার বয়স তাকে ধরে।
দেহের মাঝে হাজার কাজে বহে প্রাণের বায়ু—
পালের তরীর মতন যেন ছুটিয়ে চলে আয়ু,

৮৬