পাতা:নব্য রাসায়নী বিদ্যা ও তাহার উৎপত্তি - প্রফুল্লচন্দ্র রায়.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
৪৫
৪৫
নব্য রাসায়নী বিদ্যা ও তাহার উৎপত্তি

নব্য রসায়নবিদ্যা (২য়) একটু পরিষ্কার চূণের জল কাচের গেলাসে লইয়া একটা নলে ফু দি ঐ জলের মধ্যে ফুসফুসের বায়ু চালনা করুন। শীঘ্রই দেখিবেন যে চূণের জল দুধের মত সাদা হইতেছে। দুই চারি মিনিট এইরূপ করিয়া এই জল “থিতিতে” দিলে (অর্থাৎ স্থির ভাবে রাখিলে) কিছুক্ষণ পরে দেখা যাইবে যে পাত্রের নীচে খড়ির গুড়ার মত সাদা সাদা কণিকা জমিয়ছে। ধীরে ধীরে উপরের পরিষ্কার জল অন্য পাত্রে ঢালিয়া পরে “চেকে" দেখিলে ( আস্বাদন করিলে) স্পষ্ট বােঝা যাইবে যে চূণের জলের তীক্ষার গুণ বা তীব্রতা চলিয়া গিয়াছে । এক টুকরা কাগজ হরিদ্রার রসে সিক্ত করিয়া তাহাতে ২৪ ফোটা পরিষ্কার চূণের জল দিলে কাগজে লােহিতবর্ণ দাগ হয়। ক্ষার পদার্থ মাত্রেই এই ধৰ্ম্মাক্রান্ত। কিন্তু ক্ষারের তীক্ষ্ণতা বিনষ্ট হইলে হরিদ্রা রসের ঐরূপ বর্ণের পরিবত্তন হয় না। শেষে উক্ত খড়ির মত সাদা কণিকাগুলি সংগ্রহ করিয়া তাহার উপর লেবুর রস বা কোন অন্ন দিলে আবার ফেণার মত গেঁজাইতে থাকিবে। (৩য়) একটী কাচের শুস্তাকৃতি পাত্রের ভিতর লৌহ তারে সংলগ্ন এক টুকরা জ্বলন্ত কয়ল। প্রবিষ্ট করাইয়া দেখিবেন যে কয়লা ক্ষণকাল মাত্ৰ জ্বলিয়া পরে নিবিয়া যাইবে। এই পাত্ৰ পূৰ্বে অনুজান বায়ুতে পূর্ণ করিয়া যদি ঐরূপ পরীক্ষা করা যায় তবে তো কথাই নাই, কয়লা ধূ ধূ করিয়া জ্বলিবে এবং ইহা হইতে চারি দিকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হইবে। এই পাত্রে একটু সামান্য জল ঢালিয়া তাহা বিশেষ রূপে নাড়িলে দেখা যাইবে যে জল অম্নাক্ত হইয়াছে (হরিদ্রা কাগজ দিয়া পরীক্ষা করুন। অর্থাৎ কয়লা ও অম্লজানের সংযােগে ঐ জলের মধ্যে অন্নসাত্মক বায়ু মিশ্রিত হইয়াছে। আস্বাদনেও ঐ জল সামান্য "অম্নাক্ত বােধ হইবে।' পরে এই পাত্রে পরিষ্ক রণের জল ঢালিয়া