বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৯৬

 ভিক্টোরিয়া প্রপাত এবং নায়েগ্রা প্রপাত এই দুটাই হল পৃথিবীর সব চেয়ে বড় প্রপাত। অন্য আর একটি প্রপাত নাকি হালে আফ্রিকাতে আবিষ্কৃত হয়েছে। সেই প্রপাত দেখবার সুযোগ আমার হয়ে উঠে নাই। ভিক্টোরিয়া প্রপাত এবং নায়েগ্রা প্রপাতের গঠন একই ধরণের। এখন আমি আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া প্রপাতের কথাই বলছি।

 দক্ষিণ রডেসিয়ায় উত্তরদিকে জাম্বেসী নদী বয়ে চলেছে। জাম্বেসী নদীর উৎপত্তি স্থান হতে যে জলধারা বয়ে চলেছে তা ভিক্টোরিয়া প্রপাতের একটু আগে পর্য্যন্ত যে অবস্থাতে থাকে তা অতীব আশ্চর্য্য। প্রশস্থ নদী বক্ষে গ্রেভেল (বড় গোল পাথর) সর্বত্র ছড়ানো। গোল পাথরের নীচ দিয়ে কোথাও কোথাও সামান্য জল ঝির ঝির করে বয়ে যাচ্ছে। নদী বক্ষে প্রায় স্থানেই গুল্ম দেখতে পাওয়া যায়। আবার কোথাও কোথাও ছোট ছোট বৃক্ষের জন্ম হয়েছে। জংলী ছাগল নদীবক্ষে ঘাস ঘায়। বড় বড় বানর নদী বক্ষের বড় বড় পাথরের উপর বসে ছোট ছোট মাছ ধরার জন্য ধ্যানে বসে। বক এবং সারস জাতীয় পাখী নদীবক্ষে দিনের বেলায় অনবরত আসা যাওয়া করে। এই ত হল নদীবক্ষের অবস্থা। তারপর নদীটা যতই নিম্নগামী হয়েছে ততই খরস্রোতে পরিণত হয়েছে। ইচ্ছা করলে যে কোন লোক সেই স্রোতে নির্বিঘ্নে স্নান করতে পারে। অনেক সময় এই স্রোতের জলে অনেক বন্য ছাগল পড়ে যায়। নদীর স্রোত তাদের প্রপাতে টেনে নিয়ে যেতে পারে না, ছাগল সাঁতার কেটে ওপারে চলে যায়। এই দুই শত হাত দূরেই হল প্রপাত।

 প্রপাত থেকে ক্রমাগত ধূমের আকারে উপরের দিকে জল উঠে মেঘের সৃষ্টি করে। বাস্তবিক পক্ষে দুই শত হাত দূরে থেকে বুঝা যায় না যে কাছেই এত বড় প্রপাত রয়েছে। নদীর বক্ষস্থল দেখার পর পূর্ব কথিত রেলওয়ে ব্রিজের উপর গিয়ে দাঁড়ালাম। রেলওয়ে ব্রিজের দুপাশে