বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৯৮

গভীরতা বাড়ে। কিন্তু ভিক্টোরিয়া প্রপাতের মত প্রপাত সৃষ্টি করতে পারে না। যখনই কোনও পচা পাথরের লহর অনেক দূর চলে গিয়ে হঠাৎ নিম্নস্থানের কাছে গিয়ে শেষ হয় তখনই ভিক্টোরিয়া অথবা নায়েগ্রা প্রপাতের মত প্রপাত সৃষ্টি করতে পারে। জাম্বেসী নদীর প্রথম রেখাটা ঠিক সেরূপ অবস্থায় পৌঁছুতে পেরেছিল বলেই আজ আমরা ভিক্টোরিয়া প্রপাত দেখতে পাচ্ছি। প্রপাপ এবং প্রস্রবনে অনেক প্রভেদ রয়েছে। সেদিকেও পাঠকদের লক্ষ্য রাখা চাই। যে জলরাশি কোনও পর্বতের উপর হতে ঝম্‌ঝম্ করে নিম্নস্থানে পড়ে তাকে বলা হয় প্রস্রবন। প্রপাত সেরূপ নয়। প্রপাত নদী হ’তে জন্ম নিয়ে নদীতেই পতিত হয়।

 প্রাকৃতিক দৃশ্য এক-দু’ ঘণ্টায় দেখা যায় না। প্রথম দিনটা ত গেল হট্টগোল করেই। দ্বিতীয় দিন সকাল বেলা বাসে না গিয়ে সাইকেলে করেই প্রপাতের কাছে চলে গেলাম। আমার পৌঁছার পূর্বেই একদল ভারতবাসী বাসে করে প্রপাতে পৌঁছে গিয়েছিল। দেশবাসীদের সংগে নিয়ে হোটেলে রওয়ানা হলাম। আমাদের যাবার কতক্ষণ পরই দেখলাম হোটেলের ম্যানেজার দৌড়ে আসছেন। তিনি এসেই বললেন হোটেলে লোকে লোকাকীর্ণ আপনাদের স্থান সেখানে হবে না। আমি তাকে বললাম “মশাই হোটেলে স্থান চাই না হোটেলটা দেখতে চাই মাত্র।” হোটেল-ম্যানেজার আমাকে সংগে করে নিয়ে বম্বের তাজমহল হোটেল সদৃশ একটি বাড়ীর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন এখানে শুধু থাকার জন্য একুশ শিলিং চার্জ করা হয়। খাবারের দাম পৃথক দিতে হয়। পৃথিবীতে অনেক সুন্দর বাড়ী দেখেছি কিন্তু লিভিংষ্টোনিয়া হোটেলের মত মস্তবড় বাড়ী খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। চারদিকে দিগন্তব্যাপী উপবন। তারই মাঝে রূপার সূতার মত নদীগুলি বয়ে যাচ্ছে দেখতে পাওয়া যায়। হোটেলটি উচ্চস্থানে অবস্থিত বলে সকল সময়েই ঠাণ্ডা