বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

সমীরণ বইতে থাকে। সেই ঠাণ্ডা সমীরণে ভাবুক অনেক সময় ভেরে ভেবেই দিন কাটিয়ে দিতে পারে।

 ফেরার পথে দেখা হল একজন নিগ্রোর সংগে। সে আমাদের একটা মরা সিংহ দেখাতে নিয়ে গেল। এতবড় সিংহ আর কখনও দেখিনাই। সিংহটাকে এক বৈমানিক উপর থেকে মেসিনগান দিয়ে হত্যা করেছিল। নিকটস্থ বিমান ঘাঁটিতে গিয়ে বৈমানিক সংবাদ দেয় এবং নিগ্রোরা মৃত সিংহ বন হতে খুঁজে বের করে হোটেলের সামনে রেখেছে।

 একজন ভারতীয় প্রস্তাব করলেন “আপনি সিংহটার কাছে দাঁড়ান আর আমরা ফটো উঠাই। আমি তাতে রাজি হলাম এবং ফটো উঠান হল। পরে ভারতীয় বন্ধুগণ বলল, “দেশে গিয়ে বলবেন আপনি এই সিংহটাকে হত্যা করেছেন। এতে আপনার বইয়ের বেশ কাটতি হবে। ওদের কথায় উত্তর দেইনি বটে কিন্তু এদের কেন যে এত হীন প্রবৃত্তি জেগেছিল তাই আমি কয়েকদিন ক্রমাগত ভেবেছিলাম। এক শ্রেণীর পাঠকও আবার ইত্যাকার আজগুবি গল্প চায়। কিন্তু এরূপ দুষ্ট গল্প ভ্রমণ কাহিনীতে না দিয়ে উপন্যাসে দিলেই ভাল হয়। আমার চীন ভ্রমণে বারংবার আমি ডাকাত শব্দটি ব্যবহার করেছি। তখনকার দিনে প্রগতিশীলদের অপর নাম ডাকাত ছিল। তা ক’জন জানতেন? আমিও প্রগতিশীল শব্দটি ব্যবহার না করে আইন বাঁচিয়ে নিজের কাজ সমাপ্ত করেছি, সেকথাটা ক’জন অনুধাবন করেছেন। পাঠকবর্গের দু’ পংক্তির মধ্যে তৃতীয় পংক্তি খুঁজে বের করার শক্তি ক’জনারই বা আছে!

 ঠিক বেলা এগারটার সময় দেখলাম একদল ইউরোপীয়ান ভিজা কাপড়ে হোটেলে ফিরছে। আকাশে মেঘ নাই অথচ তারা বৃষ্টিতে কি