বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১০০

করে ভিজ্‌ল বুঝতে পারলাম না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে তারা যেদিক থেকে আসছিল, আমিও সেদিকে গেলাম। কতক্ষণ যাবার পরই লিভিংস্টোনের পিতল মূর্তি দেখতে পেলাম। মুর্তিটির পরিমাণ লিভিংস্টোনের জীবিতাবস্থার সম আকৃতি। লিভিংস্টোনের আকৃতিতে মহানুভবতার বেশ একটি ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। এই মূর্তিটি দেখার জন্য বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে আরও এগিয়ে গেলাম।

 সামনেই প্রবল ধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। অথচ একটু দূরে থেকেও সেই মহান দৃশ্যের সন্ধান পাওয়া যায় না। স্থানটি বৃক্ষরাজিতে আবৃত বলেই কাছের জিনিসও দেখা যায় না। বৃষ্টিকে অবজ্ঞা করে আরও এগিয়ে গিয়ে দেখলাম প্রবল ধারায় জল নীচে পড়ছে। জল নীচের দিকে পড়ার সময় ভয়ঙ্কর শব্দ করছিল। সেই শব্দ কানে অত্যন্ত যন্ত্রণা দিচ্ছিল। সংগে তূলা ছিল না। রুমাল ছিঁড়ে ভিজিয়ে তাই কানে গুজে দিলাম। কানের ব্যথা কমল। আরও এগিয়ে দেখলাম যেখানে জল পড়ছে সেখান হতে ছিটকে উপরের দিকে উঠছে এবং পুনরায় বৃষ্টির আকারে নীচের দিকে নেমে আসছে। আশে-পাশে নানা রকমের গাছ গাছে টিন্ প্লেটে নানা ইউরোপীয়ান ভাষায় “সাবধান” লেখা ছিল। এশিয়ার কোন ভাষায় সাবধান লেখা ছিল না। এরপর কি চিন্তা করছিলাম তার একটি কথাও মনে নেই।

 কতক্ষণ যে দাঁড়িয়ে ছিলাম বলতে পারি না। হঠাৎ একজন লোক আমার মুখে একটি জ্বলন্ত সিগারেট গুজে দিয়ে বলল চলুন মশায়, এবার বাড়ী যাই—আমিও লিভিংষ্টোনিয়া যাব। সিগারেট টানতে বেশ আরাম বোধ করছিলাম, কিন্তু নড়তে পারছিলাম না। হাত পা ঠাণ্ডা হয়েছিল। আগত লোকটি আমার দুর্দশা দেখে বলল ভয়ের কোন কারণ নেই আমিই আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি বলেই সে আমাকে কাঁধে উঠিয়ে জংগলের বাইরে