আনল। সেখানে কয়েকজন ভারতীয় দাঁড়িয়েছিল। তারা বোতল হতে ব্রাণ্ডি আমার মুখে ঢেলে দিল। চলবার শক্তি হল না তবে দাঁড়াবার শক্তি হল।
নিয়ম রয়েছে যখন কোন লোককে প্রপাতের কাছে দেখা যায় তৎক্ষণাৎ তাকে ডাকতে নেই। পাশেই পুলিশ থাকে। পুলিশ জানে কি করে তন্ময় লোকটিকে ডাকতে হয়। ভারতীয়রা আমার দেরী দেখে আমায় খুঁজে বের করে এবং আমার তন্ময় অবস্থা দেখে পুলিশ ডেকে আনে। পুলিশের পোষাক ভদ্রলোকের মত থাকে। সাহায্যপ্রাপ্ত লোকটি মনে করে কোনও সদাশয় লোক তাকে সাহায্য করছেন অথবা সাহায্য করবেন। অনেকে পুলিশ দেখেও থতমত খেয়ে যায়, অনেকের জ্ঞানও লোপ পায়। পরিষ্কার স্থানে অনেকক্ষণ দাঁড়ালাম, তারপর শরীরে চেতনা হলে শহরের দিকে রওয়ানা হলাম।
পরের দিন সকাল ন’টার সময় আবার সেস্থানে গেলাম। দেখলাম ইউরোপীয়ানরা একটা প্রকাণ্ড বানরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বানর তখনও মরেনি। একজন ইউরোপীয়ান তার হাতের কেতলী হতে একটু ব্র্যাণ্ডি বানরের মুখে ঢেলে দেবার কয়েক মিনিট পর বানরটা সজ্ঞানে এল এবং একটু এদিক সেদিক চেয়েই এক লাফ দিয়ে জংগলের দিকে পালিয়ে গেল। এরূপ করে অনেক বানও নাকি এখানে মরে। এসব স্থানে কেউ একাকী যায় না। যারা একাকী যায় তারা নানারূপ বিপদে পড়ে।
যদি তন্ময় হবার কোনও স্থান থাকে তবে ভিক্টোরিয়া প্রপাতের তীরদেশ। আমেরিকার নায়েগ্রা প্রপাতের কাছে সেরূপ স্থান নাই। যে সকল ভারতবাসী মনটাকে চিন্তাশূন্য করতে চান তাদের বলি তারা যেন ভিক্টোরিয়া প্রপাতের কাছে যান। মুক্ষ অনিবার্য। আধ্যাত্মিকতার জয় জয়।