বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১০২

 ইউরোপীয়ানরা যতক্ষণ ছিল আমিও ততক্ষণ তাদের সংগেই ছিলাম। তারা যখন হোটেলে ফিরে গেল আমি সেই স্থান পরিত্যাগ করে প্রপাতের জল যেদিকে বয়ে যাচ্ছে সেদিকে রওয়ানা হলাম। কয়েক মাইল যাবার পর সামনে পড়ল একটা মস্তবড় বন। বনে প্রবেশ করতে ইচ্ছা হল না, ফিরে আসলাম।

 লিভিংষ্টোনিয়াতে ফিরে আসার পর অসুস্থতা অনুভব করায় শুয়ে ছিলাম। আমাকে অসুস্থ দেখে একজন ইণ্ডিয়ান, তাদের জন্য নির্দ্ধারিত বিয়ারের দোকানে নিয়ে গেল। দোকান ইউরোপীয়ানদের দ্বারা পরিচালিত। যে সকল ভারতীয় পুরুষ ইউরোপীয়ান পোষাক পড়েন এবং যে সকল ভারতীয় মহিলা শাড়ী ব্যবহার করেন শুধু তারাই এই বিয়ারের দোকানে প্রবেশ করতে পারেন। ইউরোপীয়ানের ব্যবহার খুবই ভাল। ঘরও বেশ পরিষ্কার। নারীদের বসার স্থান পৃথক রয়েছে বটে কিন্তু ইচ্ছা করলে একত্রেও বসতে পারেন।

 বিয়ারের সংগে চাটন স্বরুপ অন্য কিছু কিনতে পাওয়া যায় না। খাঁটী ইউরোপীয়ান ধরণে দোকান পরিচালিত হয়। যদি কোন ইণ্ডিয়ান মাতাল হয়ে কোনও স্ত্রীলোককে আক্রমণ করে তবে মাতালকে বাড়ীতে পৌঁছে দেবারও ব্যবস্থা রয়েছে। মদের দোকানে ঢোকার পর আমার মনের পরিবর্তন হ’ল। অবুঝ ভারতবাসীর কাছ থেকে সবাই অর্থ ছিনিয়ে নিতে পারে কিন্তু সভ্যতার দিকে একটুও এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে না। লিভিংষ্টোনিয়ার বিয়ার ব্যবসায়ী কিন্তু সেরূপ লোক নয়। সে ভারতবাসীকে বিপথগামী করতে রাজি নয়। আমার মন্তব্য শুনে অনেকেই বলবেন স্ত্রী-পুরুষ মিলে কি বিয়ার খাওয়া ভাল দেখায়? যারা সিমেটিক সভ্যতার মোহে মোহিত তারা আমাকে এ বিষয়ে ক্ষমা করবেন। স্ত্রীলোকের মর্যাদা সিমেটিকরা কখনও দেয় নাই। আমরা