বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

সেই সভ্যতায় অন্ধ হয়ে রয়েছি। অতএব স্ত্রী-পুরুষ মিলে বিয়ার খাওয়া আমাদের কল্পনাতীত।

 সকাল বেলা আবার প্রপাতের দিক রওয়ানা হলাম। পথ চলতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। নদী তীরে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। জাম্বেসী নদীও সুন্দর। অনেকক্ষণ নদী তীরে বসে প্রপাতের কাছে গেলাম। সেখানে বেশিক্ষণ বসলাম না কি জানি নির্বান পেয়ে যাই। যারা মনকে চিন্তাশূন্য করার জন্য নানারূপ প্রাণায়াম করেন তাদের আমরা কত সম্মান করি, খাদ্য সংগ্রহ করে দেই এবং ভাবি প্রাণামামকারী আমাদের চেয়ে কত উন্নত। সেই দুর্লভ শক্তি এখানে পাঁচ মিনিটেই আয়ত্ব হয়।

 প্রপাতের বহুদূরে নানাস্থানে কুঞ্জবন রয়েছে, সেই কুঞ্জবনে অনেক ইউরোপীয়ানকে ধ্যানস্থ অবস্থায় দেখলাম। একটি লোককে ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “এরূপ ভাবে থাকবার মানে?” অবশ্য সেজন্য বারবার ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। ইউরোপীয়ান বললেন এসব স্থানে বসে থাকলে মন চিন্তাশূন্য হয়। আহার নিদ্রার উদ্রেক থাকে না সেজন্যই বসে আছি। “ধন্যবাদ মশাই” এই বলেই সেখান হতে বিদায় নেই।

 পৃথিবীর সর্ববৃহৎ একটি প্রপাত দেখতে পেরেছি বলে মনে বেশ আনন্দ হল। চতুর্থ দিন সকাল বেলা লিভিংষ্টোনিয়ার ভারতবাসীর কাছে বিদায় নিয়ে যখন পুনরায় গাড়ীতে বসলাম তখন মনে হল হয়ত আর এখানে আসা হবে না।

 আবার সেই বংশীধ্বনি। বংশীধ্বনি বিপদ সংকেত জ্ঞাপক। বুঝতে পারলাম ভিক্টোরিয়া প্রপাতের ব্রিজের কাছে গাড়ী এসেছে। খিড়কী দিয়ে মাথা বের করে তাকালাম। পুমরায় নয়ন ভরে সে দৃশ্য দেখলাম। গাড়ী মন্থর গতিতে ব্রিজ পার হয়ে পুরাদমে চলতে থাকল। নিমেষে ভিক্টোরিয়া প্রপাত অদৃশ্য হল। দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করে দৃষ্টি ফেরালাম।