বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১০৪

 কতক্ষণ চলার পর দেখতে পেলাম গাড়ী থামল এবং একটি নিগ্রোকে গাড়ী হতে টেনে নামিয়ে দেওয়া হ’ল। নিগ্রোটা ভুল করে বিপদ হতে রক্ষা পাবার অস্ত্র ছোড়া নিয়েই গাড়ীতে উঠেছিল। আফ্রিকাতে প্রত্যেক নিগ্রো, আরব, সোমালী একখানা করে ছোড়া সংগে নিয়ে পথ চলে। ইউরোপীয়ান এবং ইণ্ডিয়ানরাই সংগে ছোরা রাখাটা বর্বরতার লক্ষণ বলে মনে করে। সেজন্য শহরের মধ্যে, রেলগাড়ীতে কাউকে ছোরা রাখতে দেওয়া হয় না। নিগ্রো লোকটিকে যখন বুঝিয়ে বলা হল রেলগাড়ীতে ছোড়া নিয়ে চলতে নেই তখন সে দু’ তিনবার তার জাতীর নৃত্য করে কোমড় হতে বেল্ট সমেত ছোড়াটা ফেলে দিল এবং হাসতে হাসতে আবার গাড়ীতে উঠল। নিগ্রোদের যদি কিছু বুঝিয়ে বলা হয় এবং সে তা বুঝতে সক্ষম হয় তবে সে গা ঝাড়া দিবেই এবং একটু নৃত্যও করবেই। তারপর সে উপদেশ অনুযায়ী কাজ করবে। এটা হল তাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্য। যারা সভ্য হয়েছে তারা এখনও সেই বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করতে পারে নাই। উপদেশ দেবার সময় উর্দ্ধে চোখ উঠিয়ে পরে চারদিক চেয়ে যে উপদেষ্টা উপদেশ দেয়। তার উপদেশ অনুযারী যারা কাজ করে তারা কিরূপে তাকে অনুসরণ না করে থাকতে পারে?

 গাড়ী চলছে বুলোবায়োর দিকে। সভ্যতা সেখানে আছে সেজন্য সবাই সেখানে পৌঁছবার জন্য উদ্‌গ্রীব। যে সকল ইউরোপীয়ান জংগলে থেকে বেশ মোটা টাকা অর্জন করেছে তারা বুলোবায়ো পৌঁছার জন্য অস্থির হয়েছে। অনেকেই গান ধরেছে। প্রত্যেক ষ্টেশনে ষ্টেশনে তারা আনন্দসূচক ধ্বনি করছে! এতে আমার ঘুমের যদিও ব্যঘাত হচ্ছিল তবুও এদের আনন্দ দেখে আমিও আনন্দিত হয়েছিলাম।

 বুলবায়োতে ফিরে এসে পেটেরে বাড়ীতেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হরেছিলাম। জাম্বাবী ধ্বংসস্তূপ দেখবার জন্য মন বড়ই উথলা হয়ে