এসেছেন ভ্রমণের নেশায় মত্ত হয়ে, আপানার চোখে এসব ছোট-খাট বিষয় দৃষ্টিভূত হবে না।
কথা শেষ করে গৃহস্বামী দীর্ঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করলেন দেখে আমারও দুঃখ হল। আমি তার নাম জিজ্ঞাসা করলাম; গৃহস্বামী বললেন “এনতোনিয়ো পেদ্রো”! নামটি একেবারে মামুলী। এদেশে এ নামে হাজার হাজার লোক দেখতে পাবেন। আমি তার মধ্যে একজন।
সিনিওর পেদ্রোকে মামুলী লোক বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। এঁর ঘরটি সুন্দর এবং মূল্যবান ফার্ণিচারে সজ্জিত ছিল। পাকের উনুন ইউরোপীয়ান ধরনের। ঘরেতে নানা রকমের পুস্তকাবলী। পরিচ্ছদও মামুলী লোকের বলে মনে হল না। তবুও তিনি কেন যে মামুলী লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন তার কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন “এখন আমাকে চিনবার চেষ্টা করুন, আমার শরীরের গঠন সবটাই ইউরোপীয়ানদের মত, কিন্তু চুলগুলি বেশ মোটা এবং কালো, সেজন্যই আমি ইউরোপীয়ান নই। যেহেতু আমি ইউরোপীয়ান্ নই সেজন্য আমার মাইনেও ইউরোপীয়ানদের মত নয়। যদিও আমার নামের সংগে মাইনের কোনই সম্পর্ক নেই তবু ও বলছি মামুলী নাম আর মামুলী মাইনেতে আমার চলে না।
আমার পরিচয় পেদ্রো পূর্ব্বে পেয়েছিলেন, এখন আরও একটু ঘনিষ্টতা হওয়ায় তিনি আমাকে তার ঘরে নিয়ে বসালেন এবং নানা বিষয়ে আলোচনা করতে আরম্ভ করলেন।
কথা প্রসংগে পেদ্রোর মামুলী জীবনচরিত বলতেও ভুললেন না তার জন্মস্থান সেণ্টহেলেনা দ্বীপে। সেখানে নেপোলিয়ন্ নির্বাসিত হয়েছিলেন।