বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১১০

ব্যবহার কর ক্ষতি নেই কিন্তু বিল্ডিংটি তৈরী হওয়া চাই এই হল এদের কৃষ্টি। শিল্পের দিক দিয়ে এদের কোন দিন কোন রকমের খেয়াল ছিল না, যে সকল চারুশিল্প আমরা আর্য, সিমাইট অথবা ফিনিসিও সভ্যতার ভেতর দেখতে পাই তা দ্রাবিড় অথবা অষ্ট্রিক সভ্যতার মত নয়।

 দরজার পাশেই কতকগুলি জ্বালানি কাঠ অর্দ্ধদগ্ধ অবস্থায় দেখে মনে হল হয়ত এখানে কোন দরিদ্র পরিব্রাজক পাক করে খেয়েছিল। তারপরই দেখলাম রডেসিয়া সরকারের বিজ্ঞপ্তি। অমুক দিকে যাবেন, অমুক জিনিস দেখবেন ইত্যাদি, যেন দর্শককে গাইড করে নিয়ে যাবার বেশ নির্দেশ রয়েছে। আর একটু এগিয়ে গিয়ে একটি মঠ পেলাম! মঠটি অবিকল ভারতীয় ধরণের। যে সকল পাথর দিয়ে মঠ তৈরী হয়েছে সেগুলি একই রকমের এবং একই জাতের। কৃষ্ণবর্ণ পাথর দিয়ে এতবড় একটা ইমারত গঠন করা বড়ই কঠিন কাজ। মঠ হতে বের হয়ে যখন মাইল ব্যাপী ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেলাম তখন শুধু একই ধরণের পাথর একই আকৃতিতে কাটা দেখতে পেয়ে আশ্চর্য অনুভব করলাম।

 মঠের কাছেই দুটা বকুল গাছ দেখে মঠের ভেতর বসে থাকতে ইচ্ছা হল না। বকুল তলায় গিয়ে পাকা বকুল গোটাগুলি একত্রিত করার সময় নানা কথা ভাবছিলাম। কাছেই একটা ডুমুর গাছ দেখতে পেলাম। এরূপ ডুমুর গাছ বাংলা, আসাম, উড়িষ্যা এবং দক্ষিণ ভারতেই দেখা যায়। ডুমুর ফলগুলি পাকা ছিল বলেই দু একটা পাকা ডুমুর মুখে দিতে ভুলিনি। কিন্তু তাতে অসংখ্য ছোট ছোট বীজ থাকার মুখ থেকে ফেলে দিতে হয়েছিল। ডুমুর খাওয়া হয়ে গেলে একখানা পাথর বের করে তাই পরীক্ষা করলাম। কৃষ্ণ পাথরে চূণের ভাগ ছিল কিন্তু চূণের ভাগ অতি সামান্য থাকায় পাথর পাথর রূপেই ছিল। পাথর খানা সামান্য পরিমাণে